চরচা ডেস্ক

দুই সপ্তাহ পর তার ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপনের কথা ছিল। কিন্তু সে সময় আর পেলেন না স্যার গ্যারি সোবার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি, যাকে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার মানেন অনেকেই, আজ বার্বাডোজে নিজ বাড়িতে মারা গেলেন।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার– দুই ভূমিকায়ই কিংবদন্তি প্রয়াত রিচি বেনো একবার সোবার্সকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘বিশ্ব যে ক্রিকেটারদের দেখেছে, তাদের মধ্যে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার।’
ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল, বাস্কেটবল আর গলফেও বার্বাডোজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। যে ক্রিকেট তাকে বেদিতে বসিয়ে রাখে, সেখানে সোবার্স কী করতেন, তার চেয়ে কী করতেন না– এই তালিকাই ছোট হবে। এক কথায় বলে দিতে পারেন, উইকেটকিপিংটা বাদে সবকিছুই করেছেন সোবার্স।
১৯৫৪ থেকে পরের ২০ বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ব্যাট হাতে ৫৭.৭৮ গড়ে ৮০৩২ রান, বল হাতে ৩৪.০৩ গড়ে ২৩৫ উইকেট – অলরাউন্ডার হিসেবে তাকে কিংবদন্তিতুল্য করে রাখতে যথেষ্ট। কিন্তু সোবার্সকে নিয়ে মহাকাব্য শুধু তার পরিসংখ্যানের জন্য হয় না। মহাকাব্য রচিত হয় তার অনায়াস দক্ষতার জন্য। ফিল্ডিংয়ে যেকোনো জায়গায়ই দারুণ ছিলেন, ইন-ফিল্ড ক্যাচার হিসেবে চোখধাঁধানো। বোলিংয়ে নতুন বলে বাঁহাতি পেস বোলিং যেমন করেছেন, খুব অনায়াসেই করেছেন অর্থোডক্স ও রিস্ট স্পিনও! এমনি এমনিই তো আর আইসিসির বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের নামটা ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স অ্যাওয়ার্ড’ হয়নি!
A great innings has come to an end. In our hearts, now and forever, Sir Garfield Sobers. 🖤🏏 pic.twitter.com/bv2MO1SJgz
— Windies Cricket (@windiescricket) July 17, 2026
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, ‘অসাধারণ একটা ইনিংস তার সমাপ্তি দেখল। স্যার গারফিল্ড সোবার্স আমাদের হৃদয়ে থাকবেন– এখন, সব সময়।’
১৬ বছর বয়সে ফার্স্ট ক্লাসে অভিষেক সোবার্সের, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিটা গায়ে উঠতে এক বছরও লাগেনি। টেস্ট ক্যারিয়ার শুরুটা করেছিলেন বোলার হিসেবে। কিন্তু বয়স ২৩ পেরোনোর আগেই টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি হয়ে যায় তার। এর চেয়েও বড় কীর্তি– ১৯৫৮ সালে স্যাবাইনা পার্কে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৬৫ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস! লেন হাটনের রেকর্ড ভেঙে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের যে কীর্তি সেদিন গড়েছিলেন সোবার্স, তা টিকে ছিল ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। ব্রায়ান লারা তার রেকর্ড যেদিন ভাঙেন, সে ইনিংস মাঠে বসেই দেখেছিলেন সোবার্স, উদ্যাপনও করেছিলেন।
টেস্টে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গড়ার বছর দশেক পর ওভারে এক ছক্কার রেকর্ডও গড়ে ফেলেন সোবার্স! টি-টোয়েন্টি, টি-টেনের এই যুগে ৬ বলে ৬ ছক্কা হয়তো বেশ কয়েকবারই হয়েছে। কিন্তু ষাটের দশকে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলার সময়ে গ্ল্যামারগনের ম্যালকম ন্যাশের ওভারের প্রতিটি বলই যখন গ্যালারিতে ফেলেছেন সোবার্স– ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ছয় বলে ছয় ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন, একবার সেদিন মাঠে থাকা দর্শকের বিস্ময়মাখা মুগ্ধতার মাত্রা বোঝার চেষ্টা করুন, নিজেরই অবাক লাগবে।
কিংবদন্তিতুল্য এই ক্যারিয়ারের জন্য ১৯৭৫ সালে নাইটহুড পান সোবার্স।
The Greatest Of All Time
— Cricketopia (@CricketopiaCom) July 17, 2026
Sir Gary Sobers passed away at age of 89.
He was the
First to hit 6 Sixes in an Over
First to reach 8000 Test runs
The Greatest All Rounder scored 8032 runs and took 235 wickets
Wisden Cricketer of Year 1964
Knighted for services to cricket 1975… pic.twitter.com/6wgAGM4GRz
আশ্চর্য লাগতে পারে, এমন ক্যারিয়ারে ওয়ানডের সংখ্যা মাত্র একটি! ১৯৭১-এ ওয়ানডের প্রচলন হলো, ১৯৭৫-এ প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপের এক বছর আগেই অবসরে চলে গেলেন সোবার্স। তার সিদ্ধান্ত নিয়ে উইজডেনকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান লিখেছিল, ‘একেবারে সহজভাবে বললে, মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত সোবার্স খেলাটার প্রতি আকর্ষণই হারিয়ে ফেলেছেন…।’
১৯৬৮-তে সোবার্সের ছয় বলে ছয় ছক্কার রেকর্ডের সময় নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান জন পারকিন একবার সোবার্সকে নিয়ে বলছিলেন, সেদিন ম্যাচের পর সবাই যখন ছয় ছক্কার কথাই শুনতে চাইছিলেন, গ্যারি সোবার্সের ওসব নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। পারকিনের কথা, ‘বিশ্ব রেকর্ড নিয়ে গ্যারি সোবার্সের কোনো আগ্রহ ছিল না। সে শুধু খেলার আনন্দে খেলে যেত। সবকিছু সহজ রাখতে পছন্দ করতে সে। আমার কাছে, ওটাই ছিল লোকটার মহত্ত্ব।’

দুই সপ্তাহ পর তার ৯০তম জন্মদিন উদ্যাপনের কথা ছিল। কিন্তু সে সময় আর পেলেন না স্যার গ্যারি সোবার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি, যাকে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার মানেন অনেকেই, আজ বার্বাডোজে নিজ বাড়িতে মারা গেলেন।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার– দুই ভূমিকায়ই কিংবদন্তি প্রয়াত রিচি বেনো একবার সোবার্সকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘বিশ্ব যে ক্রিকেটারদের দেখেছে, তাদের মধ্যে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার।’
ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল, বাস্কেটবল আর গলফেও বার্বাডোজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। যে ক্রিকেট তাকে বেদিতে বসিয়ে রাখে, সেখানে সোবার্স কী করতেন, তার চেয়ে কী করতেন না– এই তালিকাই ছোট হবে। এক কথায় বলে দিতে পারেন, উইকেটকিপিংটা বাদে সবকিছুই করেছেন সোবার্স।
১৯৫৪ থেকে পরের ২০ বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ব্যাট হাতে ৫৭.৭৮ গড়ে ৮০৩২ রান, বল হাতে ৩৪.০৩ গড়ে ২৩৫ উইকেট – অলরাউন্ডার হিসেবে তাকে কিংবদন্তিতুল্য করে রাখতে যথেষ্ট। কিন্তু সোবার্সকে নিয়ে মহাকাব্য শুধু তার পরিসংখ্যানের জন্য হয় না। মহাকাব্য রচিত হয় তার অনায়াস দক্ষতার জন্য। ফিল্ডিংয়ে যেকোনো জায়গায়ই দারুণ ছিলেন, ইন-ফিল্ড ক্যাচার হিসেবে চোখধাঁধানো। বোলিংয়ে নতুন বলে বাঁহাতি পেস বোলিং যেমন করেছেন, খুব অনায়াসেই করেছেন অর্থোডক্স ও রিস্ট স্পিনও! এমনি এমনিই তো আর আইসিসির বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের নামটা ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স অ্যাওয়ার্ড’ হয়নি!
A great innings has come to an end. In our hearts, now and forever, Sir Garfield Sobers. 🖤🏏 pic.twitter.com/bv2MO1SJgz
— Windies Cricket (@windiescricket) July 17, 2026
তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, ‘অসাধারণ একটা ইনিংস তার সমাপ্তি দেখল। স্যার গারফিল্ড সোবার্স আমাদের হৃদয়ে থাকবেন– এখন, সব সময়।’
১৬ বছর বয়সে ফার্স্ট ক্লাসে অভিষেক সোবার্সের, এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিটা গায়ে উঠতে এক বছরও লাগেনি। টেস্ট ক্যারিয়ার শুরুটা করেছিলেন বোলার হিসেবে। কিন্তু বয়স ২৩ পেরোনোর আগেই টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি হয়ে যায় তার। এর চেয়েও বড় কীর্তি– ১৯৫৮ সালে স্যাবাইনা পার্কে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৬৫ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস! লেন হাটনের রেকর্ড ভেঙে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের যে কীর্তি সেদিন গড়েছিলেন সোবার্স, তা টিকে ছিল ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। ব্রায়ান লারা তার রেকর্ড যেদিন ভাঙেন, সে ইনিংস মাঠে বসেই দেখেছিলেন সোবার্স, উদ্যাপনও করেছিলেন।
টেস্টে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গড়ার বছর দশেক পর ওভারে এক ছক্কার রেকর্ডও গড়ে ফেলেন সোবার্স! টি-টোয়েন্টি, টি-টেনের এই যুগে ৬ বলে ৬ ছক্কা হয়তো বেশ কয়েকবারই হয়েছে। কিন্তু ষাটের দশকে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলার সময়ে গ্ল্যামারগনের ম্যালকম ন্যাশের ওভারের প্রতিটি বলই যখন গ্যালারিতে ফেলেছেন সোবার্স– ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ছয় বলে ছয় ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন, একবার সেদিন মাঠে থাকা দর্শকের বিস্ময়মাখা মুগ্ধতার মাত্রা বোঝার চেষ্টা করুন, নিজেরই অবাক লাগবে।
কিংবদন্তিতুল্য এই ক্যারিয়ারের জন্য ১৯৭৫ সালে নাইটহুড পান সোবার্স।
The Greatest Of All Time
— Cricketopia (@CricketopiaCom) July 17, 2026
Sir Gary Sobers passed away at age of 89.
He was the
First to hit 6 Sixes in an Over
First to reach 8000 Test runs
The Greatest All Rounder scored 8032 runs and took 235 wickets
Wisden Cricketer of Year 1964
Knighted for services to cricket 1975… pic.twitter.com/6wgAGM4GRz
আশ্চর্য লাগতে পারে, এমন ক্যারিয়ারে ওয়ানডের সংখ্যা মাত্র একটি! ১৯৭১-এ ওয়ানডের প্রচলন হলো, ১৯৭৫-এ প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপের এক বছর আগেই অবসরে চলে গেলেন সোবার্স। তার সিদ্ধান্ত নিয়ে উইজডেনকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান লিখেছিল, ‘একেবারে সহজভাবে বললে, মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত সোবার্স খেলাটার প্রতি আকর্ষণই হারিয়ে ফেলেছেন…।’
১৯৬৮-তে সোবার্সের ছয় বলে ছয় ছক্কার রেকর্ডের সময় নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান জন পারকিন একবার সোবার্সকে নিয়ে বলছিলেন, সেদিন ম্যাচের পর সবাই যখন ছয় ছক্কার কথাই শুনতে চাইছিলেন, গ্যারি সোবার্সের ওসব নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। পারকিনের কথা, ‘বিশ্ব রেকর্ড নিয়ে গ্যারি সোবার্সের কোনো আগ্রহ ছিল না। সে শুধু খেলার আনন্দে খেলে যেত। সবকিছু সহজ রাখতে পছন্দ করতে সে। আমার কাছে, ওটাই ছিল লোকটার মহত্ত্ব।’

বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে কুইক রেসপন্স সাপোর্ট (কিউআরএস) টিম। সংস্থাটি বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হামলা, আইনি হয়রানি ও অধিকার লঙ্ঘনের ৯৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, “জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার কিশোর অপরাধ ও গ্যাং কালচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। এদের একটি বড় অংশ পরবর্তীতে মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ