ads

মরক্কো ৩ : ০ কানাডা

খেলল কানাডা, ইতিহাস গড়ে ফেলল মরক্কো

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
খেলল কানাডা, ইতিহাস গড়ে ফেলল মরক্কো
দুই গোল করা উনাহিকে ঘিরে মরক্কোর উল্লাস। ছবি: এক্স

সীমিত সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার কীভাবে করতে হয়, দেখিয়ে দিল মরক্কো।

নিজেদের দুর্বলতাকে কীভাবে শক্তির জায়গা বানিয়ে ফেলতে হয়, তার একটা দুর্দান্ত উদাহরণও তৈরি করে ফেলল।

হিউস্টনে আজ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর দারুণ কৌশলের কারণে কীভাবে কী হয়ে গেল, বাড়ি ফিরে তা নিয়ে ভাবার অফুরন্ত সময় পেল বিশ্বকাপের তিন স্বাগতিক দেশের একটি কানাডার।

খেলার ধারার হিসাবে কানাডার এমন হার প্রাপ্য ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে, তবে হিউস্টনে আজ মরক্কোর কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল কানাডিয়ানরা। অন্যদিকে কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলা মরক্কো এই বিশ্বকাপে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে গড়ে ফেলল ইতিহাস। একাধিক বিশ্বকাপে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে, আফ্রিকান দলগুলোর মধ্যে মরক্কোই যে সবার আগে সেই রেকর্ড গড়ে দেখাল! কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে রাতের অন্য ম্যাচে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যে জয়ী দল।

অথচ ম্যাচের চিত্রটা কী বিপরীত ছিল! জেসি মার্শের অধীনে গতিময় প্রেসিং ফুটবলে নিজেদের পরিচয় খুঁজে নেওয়া কানাডা ম্যাচজুড়ে একই তালে খেলার চেষ্টা করেছে। প্রথমার্ধে তো মরক্কোকে কোনো সুযোগই দেয়নি কানাডা! বিরতিতে দেখা গেল, পুরো অর্ধে শট নেওয়া তো পরের কথা, কানাডা বক্সে মরক্কোর বলে স্পর্শই ছিল একটি।

কতটা দাপট ছিল তখন কানাডার, তার আরও ভালো প্রমাণ দেবে মাঠে খেলোয়াড়দের অবস্থানের গড় বের করার হিসাব ‘অ্যাভারেজ পজিশন।’ যেখানে দেখা গেল, পুরো অর্ধে মরক্কোর ১১ জনের মধ্যে কানাডার অর্ধে – সেটাও মাঝরেখার পাশেই – ছিলেন মাত্র একজন! আর কানাডা? তাদের ১০ জনেরই ‘অ্যাভারেজ পজিশন’ ছিল মরক্কোর অর্ধে!

কিন্তু মরক্কোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটটা ছিল ম্যাচের স্কোরলাইন, বিরতিতেও সেখানে লেখা – কানাডা ০:০ মরক্কো!

২০২২ বিশ্বকাপে ওয়ালিদ রেগরাগির অধীনে নিজেদের অর্ধে গেড়ে বসে সুযোগ পেলে দুর্ধর্ষ গতিতে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে যাওয়ার কৌশলে বাজিমাত করা মরক্কো এবার বিশ্বকাপের তিন মাস আগে বিদায় দিয়েছে রেগরাগিকে, তার জায়গায় দায়িত্ব পাওয়া মোহামেদ ওয়াহবির অধীনে আরেকটু আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলার চেষ্টা করে মরক্কো। তবে নিচ থেকে খেলা গড়ায় তাদের এখনো মুনশিয়ানা আসেনি, কানাডার গতিময় প্রেসিংয়ের সামনে তাই সে চেষ্টাও খুব একটা করেনি। যা করেছে, তাতেও অবশ্য কানাডার প্রেসিংয়েরও অবদান আছে।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য চিত্রটা উল্টে গেল। বলা যায়, মরক্কোর কৌশলে বদল আর কিছু চমকে দেওয়ার মতো চাল সব হিসাব বদলে দিয়েছে। আর ছিল ফিনিশিংয়ে অবিশ্বাস্য দক্ষতা। পুরো ম্যাচে ৫টা শট নিতে পেরেছে মরক্কো (কানাডার শট ১০টি), এর মধ্যে ৪টাই ছিল পোস্টমুখী, ওই চার শটেই মরক্কোর গোল তিনটি।

৫০ মিনিটে কর্নার থেকে আজ্জেদিন উনাহির গোলটা যেভাবে এল, প্রথম চাল ছিল সেটি মরক্কোর। বক্সের বাইরে থাকা এক মরোক্কান ক্রস আসার আগেই দৌড়ে সঙ্গে থাকা মার্কারকে নিয়ে গেলেন, অথচ উনাহি তখনো বক্সের বাইরে। বলটা গেল উনাহির দিকেই। উনাহি ফাঁকা জায়গা নিয়ে উঠে এসে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ বাঁকানো শটে বল জড়িয়ে দিলেন জালে।

কানাডার উজ্জীবিত ফুটবলে হঠাৎ যেন বিশাল ধাক্কা লাগল।

মরক্কো ম্যাচজুড়েই বলের দখল কানাডার হাতে তুলে দিয়ে নিজেদের অর্ধে অপেক্ষায় ছিল। তারা জানত কানাডা বল হারাবে, সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে দ্রুত উঠে যাওয়া যাবে। তা-ই হলো। ৮২ মিনিটে অল্প পাসে উঠে যাওয়া পাল্টা আক্রমণ পূর্ণতা পেল উনাহির পায়ে। কানাডা ততক্ষণেই বুঝে গেছে, সব শেষ।

যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে সোফিয়ান ব্রাহিমির গোলটিও তা-ই।

ততক্ষণে মরক্কোর ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে!

সম্পর্কিত