চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিতে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারকে ৭ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ সহায়তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারিতে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে ফেরদৌস স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার জন্য নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাদের যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, এটার জন্য আমরা ফেরদৌস স্টিল ফ্যামিলি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা অক্লান্ত চেষ্টা করেছি, নিরাপদ পরিবেশে যেন শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে পারি।” তিনি নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের জীবনের কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। তারপরও উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কোনো পরিবার যেন পথে না বসে কিংবা অন্যের কাছে হাত পাততে বাধ্য না হয়, সে জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদারক করবে। জাহাজ ভাঙা শিল্প টিকিয়ে রাখতে হবে এবং এ কাজকে জিরো ক্যাজুয়ালটির পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিলে ‘এমটি রাসি’ নামে একটি পুরোনো জাহাজ কাটার সময় ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণের ঘটনায় ১০ শ্রমিক নিহত হন। নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারের জন্য ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিএসবিআরএ ও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ঘোষিত ১০ লাখ টাকার মধ্যে দুর্ঘটনার পরপরই পরিবারগুলোকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। শিল্পনীতির বিধান অনুযায়ী দুই লাখ টাকা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি সাত লাখ টাকার চেক এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হলো।
এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিধান অনুযায়ী সীতাকুণ্ডে বসবাসকারী পাঁচ নিহত শ্রমিকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। অন্য পাঁচটি পরিবার তাদের স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে একই পরিমাণ অর্থ পাবে।নিহত শ্রমিকেরা হলেন পাবনার সুজানগরের মো. আবদুল আলিম সুজন (৩৬), জামালপুরের ইসলামপুরের হাবিবুর রহমান (৫২), চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর মো. মনছুর (৫৬), মো. নাসির উদ্দিন (৫১) ও পলাশ দাশ (৩৯), দক্ষিণ সোনাইছড়ির মতিউর রহমান (১৭), মির্জানগর জেলেপাড়ার সানি দাশ (২০), গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের মো. খোকন মিয়া (২৩), গাইবান্ধা সদরের মো. রানা মিয়া (২৩) এবং জামালপুর সদরের মো. ইদ্রিস আলী (৫০)।