ads

ভারতে নতুন ওয়াকফ বোর্ডে দুই হিন্দু সদস্যের নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ভারতে নতুন ওয়াকফ বোর্ডে দুই হিন্দু সদস্যের নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক
ছবি: রয়টার্স

ভারতের মধ্যপ্রদেশে নতুন করে গঠিত রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে দুই হিন্দু সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে করে রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের দাবি, সংশোধিত আইন অনুসারেই এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।

গত রোববার সানওয়ার প্যাটেলের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের নতুন ওয়াকফ বোর্ড গঠন করে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের প্রশাসন। বোর্ডে মুসলিম সদস্যদের পাশাপাশি অমুসলিম সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ইন্দোরের মনোজ মালপানি এবং গুনা জেলার রাঘোগড় এলাকার অনিমেষ ভার্গবকে।

রাজ্য সরকারের দাবি, এই বিধান কার্যকর করা মধ্যপ্রদেশই দেশের প্রথম রাজ্য। তবে এই নিয়োগের পরই রাজ্যের মুসলিম সংগঠনগুলো তীব্র আপত্তি জানায়।

এই বিতর্কের মূল কারণ গতবছরের সংশোধিত ওয়াকফ আইন। এই আইনের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালের ওয়াকফ আইনের আগের কাঠামোয় পরিবর্তন এনে রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডে অন্তত দুইজন অমুসলিম সদস্য রাখার বিধান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তির প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণে আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ভারতের বর্তমান সরকারের দাবি, এসব সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানো, অনিয়ম রোধ করা এবং জনসম্পত্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ওয়াকফ একটি ইসলামি ধর্মীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রতিষ্ঠান। তাই সেখানে অমুসলিম সদস্য নিয়োগ ধর্মীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিরোধী দল ও কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের অভিযোগ, এই আইন ইসলামী দাতব্য সম্পত্তি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন দুর্বল করবে।

কংগ্রেসের বিধায়ক আরিফ মাসুদ প্রশ্ন তুলেছেন, বিষয়টি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন অবস্থাতেই চূড়ান্ত রায়ের আগেই রাজ্য সরকার কেন এত তাড়াহুড়া করে নতুন বোর্ড গঠন করল। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন।

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী পি. সি. শর্মাও বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, শাসক দলের রাজনীতি এখন শুধু ‘হিন্দু-মুসলিম’ ও ‘ভারত-পাকিস্তান’ ইস্যুকে ঘিরে। তার দাবি, অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনা এবং মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত