ads

সোহাগ হত্যা মামলায় বিচার ও পলাতকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
সোহাগ হত্যা মামলায় বিচার ও পলাতকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
সোহাগ হত্যা মামলায় বিচার ও পলাতকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: চরচা

পুরান ঢাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের গেটের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকাবাসীসহ প্রায় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও বিচার কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। মামলার পলাতক আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তারা দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

নিহত সোহাগের ভাগ্নি ও মামলার বাদীর মেয়ে বিথী বলেন, “২০২৫ সালের ৯ জুলাই চাঁদাবাজদের হামলায় পাথর নিক্ষেপ করে মামাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মামলায় প্রথমে ২৪ জনকে আসামি করা হলেও তদন্ত শেষে চারজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২০ জন এজাহারভুক্ত এবং ২১ জন চার্জশিটভুক্ত আসামি রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন গ্রেপ্তার হলেও আটজন এখনো পলাতক।”

বিথী অভিযোগ করেন, পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শারাফাত নামে এক আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। তিনি নিজেকে জামিনে মুক্ত দাবি করলেও পরিবারের কাছে তার কোনো প্রমাণ নেই। একইভাবে ইমরান নামে আরেক ব্যক্তিকে তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বিথী আরও বলেন, “পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সরকার ও আইনমন্ত্রীর দেওয়া দ্রুত বিচারের আশ্বাসও এক বছরে বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু আসামি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম চালালেও তারা কোনো দলের আনুষ্ঠানিক পদে নেই।”

নিহত সোহাগের ছেলে সোহান বলেন, “মামলার দুই নম্বর আসামি টিটু এখনো গ্রেপ্তার হয়নি এবং নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। কেন পলাতক আসামিদের ধরা হচ্ছে না?”

নিহত সোহাগের মেয়ে সোহানা জানান, মামলা তুলে নিতে অপহরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার হলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে। অন্যথায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও বিস্তার লাভ করবে।

সম্পর্কিত