ads

পাইলট লাইসেন্স নবায়নে ঘুষ: বেবিচক কর্মকর্তার ৫ বছরের কারাদণ্ড

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
পাইলট লাইসেন্স নবায়নে ঘুষ: বেবিচক কর্মকর্তার ৫ বছরের কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

পাইলট লাইসেন্স নবায়ন ও পরীক্ষায় সুযোগ করে দেওয়ার নামে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জুনিয়র লাইসেন্স পরিদর্শক এইচ. এম. রাশেদ সরকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ইব্রাহিম জুয়েলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল বলেন, “এই ধরনের মামলার রায়ে একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন হলো এবং আমরা আদালতের রায়ে খুবই সন্তুষ্ট।”

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তারা এই অন্যায্য রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ফিলিপাইন থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) অর্জন করা মো. রাকিব হাসানের বাংলাদেশি লাইসেন্স রূপান্তরের আবেদনটি রাশেদ সরকার অনলাইন সিস্টেমে বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে তিনি এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

রাকিব হাসানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ‘বিএফসি’ রেস্টুরেন্টে ফাঁদ পাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেখানে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন রাশেদ সরকার।

এই ঘটনায় ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক তাহসীন মোসাবিল হক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদ কালাম আদালতে চার্জশিট জমা দেন এবং ২০২৩ সালের ৬ মার্চ এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত।

পরবর্তীতে মামলার মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো।

রায়ের আদেশে বিচারক জব্দ করা ঘুষের এক লাখ টাকা অভিযোগকারীকে ফেরত দেওয়ার এবং আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল, ল্যাপটপ, আইপ্যাড ও ক্রেডিট কার্ডগুলো রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।

সম্পর্কিত