জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে সড়কে পড়ে শিক্ষক রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় মো. রাকিব হোসেন (২৪) নামে এক আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় আসামির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান মজুমদার বলেন, “মামলার পুলিশ রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত এই আসামির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় আশা করি খুব শিগগিরই তিনি কারামুক্ত হবেন।”
মেহেদী হাসান বলেন, “প্রথমে যে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছিল সেটার মালিক আসামি মো. রাকিব হোসেন। কিন্তু ছিনতাই করার সময় এই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা হয়নি। ঘটনার সময় এই মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ রয়েছে। পরবর্তীতে ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্য এই আসামি রাকিব হোসেনকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল।”
জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাকে এই মামলায় হয়রানির জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে। আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। ছিনতাইয়ের ঘটনায় যে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে, সেটা তার না। আসামির কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। যে কোন শর্তে আসামির জামিন প্রার্থনা করছি।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট ভোরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের রাস্তায় স্বামী মো. আবদুল মতিনের সঙ্গে অটোরিকশাযোগে যাচ্ছিলেন। সে সময় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. আব্দুল মতিন বাদি হয়ে শের-ই-বাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।