নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক সময়সূচি নতুন করে পর্যালোচনা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সানাউল্লাহ বলেন, “নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময়ের ‘স্পেস’ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। আগে তো আমাকে স্লটটা পেতে হবে নির্বাচন করার জন্য। এবারে আমাদের স্পেশালিটি হচ্ছে, পুরো নভেম্বর এবং ডিসেম্বরজুড়ে হচ্ছে পরীক্ষা। গ্যাপ খুবই কম পাওয়া গেছে। আমরা দুটো জায়গায় পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার দেখতে হবে আমাদের আজকে প্রাপ্ত উপাত্তের উপর ভিত্তি করে সেগুলো আদৌ সম্ভব কিনা।”
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “এবারের বন্যার কারণে যে ইন্টারভেনশনগুলো হয়েছে, সেটার জন্য প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে যে প্রভাবটা পড়েছে, তারা এটা কাটিয়ে উঠছেন। পাশাপাশি এখানে উনারা কতগুলো অনুরোধ আমাদেরকে করেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যাতে করে পরীক্ষাগুলো ব্যাহত না হয়।”
নির্বাচনের কাজে শিক্ষকদের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে বলে জানান সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ সমন্বয় এবং ডিউটির জন্য অন্তত এক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজন হয়। কিন্তু তারা যেন তাদের মূল্যায়নের কাজটা করতে পারেন, প্রাক প্রস্তুতির কাজগুলো করতে পারেন। প্লাস পরীক্ষা যেন ব্যাহত না হয়।”
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমরা জানুয়ারিতে ফাঁকা সময় পাচ্ছি কিছুটা। আবার ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার রোজা শুরু। রোজা শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পর থেকে আবার এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এসএসসি শুরু শেষে আবার গিয়ে ওই জুন মাসের ৬ তারিখে এইচএসসি শুরুর মাঝখানে আবার একটা সময় পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য পাওয়া সময়ের পরিসর এবার খুবই সীমিত।”
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এইচএসসি পরীক্ষার আগে, অর্থাৎ ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে সবাই একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে নির্বাচন শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি বলে জানান সানাউল্লাহ।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী মোতায়েন থাকবে।”