ads

জঙ্গল সলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির পানিতে ‘বিষাক্ত পদার্থ’, তদন্ত শুরু

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
জঙ্গল সলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির পানিতে ‘বিষাক্ত পদার্থ’, তদন্ত শুরু

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর পুলিশ ফাঁড়ির পানির সরবরাহে বিষ বা অন্য কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, রোববার আলীনগর পুলিশ ফাঁড়ির পানি পান করার পর তিন পুলিশ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

Advertisement

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম জানান, যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা সদস্যরা ব্যবহৃত পানিতে অস্বাভাবিক ফেনা ও তীব্র দুর্গন্ধ লক্ষ্য করেন। পরে ক্যাম্পের পানির ট্যাংকেও একই ধরনের লক্ষণ পাওয়া যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি খালি পাত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে বিষাক্ত কোনো পদার্থ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাসুদ আলম বলেন, “এটি বিষ, কীটনাশক নাকি অন্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ ছিল, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্যাম্পের তিন সদস্য গ্লাসে পানি ঢালার সময় সাদা ফেনা দেখতে পান। তবে প্রথমে বিষয়টিকে সন্দেহজনক মনে না করে তারা পানি পান করেন। পরে পানিতে তীব্র রাসায়নিক গন্ধ টের পাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ওসি জানান, ক্যাম্পের পানি পাশের একটি বাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

মহিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তকারীদের ধারণা, কেউ পানির সরবরাহ লাইনে কারসাজি করে তাতে কোনো রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পানির পুরো ট্যাংক খালি করে পরিষ্কার করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, অসুস্থ তিন পুলিশ সদস্যের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা শঙ্কামুক্ত।

মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদারের লক্ষ্যে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর জঙ্গলে পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধী ও জঙ্গি গোষ্ঠীর আস্তানা হিসেবে পরিচিত।

গত ৯ মার্চ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত যৌথ অভিযানে সলিমপুর জঙ্গলের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগে একাধিক অভিযানে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আগের অভিযানের সময় পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

গত ২৫ মে সলিমপুর জঙ্গলের আলীনগর এলাকায় নির্মাণাধীন যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে অজ্ঞাত হামলাকারীরা বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে ক্ষতিসাধন করে।

এ ঘটনায় পরে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় ২৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

তবে মামলার প্রধান আসামি, ইয়াসিন গ্রুপের কথিত নেতা ইয়াসিন এখনো পলাতক রয়েছেন।

সম্পর্কিত