Advertisement Banner

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানকে শক্তিশালী করতে রাশিয়ার গোপন পরিকল্পনা!

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানকে শক্তিশালী করতে রাশিয়ার গোপন পরিকল্পনা!
ইরানের শাহেদ ড্রোন। ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন সরকার ইরানকে এমন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে বলে ধারণা করা হয়, যা ব্যবহার করে ইরানের ড্রোনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পেরেছে। দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনের বরাতে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বলছে, মস্কো তেহরানকে ‘আনজ্যামেবল’ ড্রোন এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান সেনাদের বিরুদ্ধে সেগুলো ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়ে থাকতে পারে।

দ্য ইকোনমিস্ট একটি গোপন নথির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পুতিন প্রশাসনের গোপন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, ইরানকে ৫ হাজার স্বল্পপাল্লার ফাইবার-অপটিক ড্রোন সরবরাহ করা। যা মস্কো ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করেছে। মস্কোর এই প্রস্তাবে তেহরানকে উভয় ধরনের ড্রোন ব্যবহারের জন্য পেশাদার প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এটিই প্রথম প্রমাণ যা ইঙ্গিত দেয়, রাশিয়া ইরানকে বিপুল সংখ্যক অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করে থাকতে পারে, যা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ড্রোন সরবরাহের পরিকল্পনাটি রুশ সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা জিআরইউ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ১০ পৃষ্ঠার একটি প্রস্তাবের অংশ, যা তেহরানের কাছে পাঠানোর কথা ছিল।

দ্য ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, তারিখহীন এই প্রস্তাবে ছয়টি ডায়াগ্রাম এবং ইরানের উপকূলীয় দ্বীপগুলোর একটি মানচিত্র রয়েছে। এই নথিটি বিশ্লেষণ করে ব্রিটিশ সাময়িকীটি অনুমান করেছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহের মধ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে স্থল সৈন্য পাঠানোর এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খার্গ দ্বীপ দখলের নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

তবে, এই নথিটি শেষ পর্যন্ত ইরানের হাতে পৌঁছানো হয়েছে কি না বা মস্কো ইরানকে কোনো ড্রোন পাঠিয়েছে কি না–তা নিশ্চিত নয়।

রুশ গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টো গ্রোজেভ দ্য ইকোনমিস্টকে বলেছেন, প্রস্তাবটি ওই অঞ্চলে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার অন্যান্য প্রমাণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

গ্রোজেভ জানান, পরিকল্পনাটি সেই তথ্যের সাথেও মিলে যায় যে জিআরইউ আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানকে সমর্থন বাড়ানোর উপায় খুঁজছে। মার্চের শেষের দিকে যুদ্ধের প্রায় এক মাস পর, পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, মস্কো তাদের নিজস্ব উন্নত সংস্করণের শাহেদ ড্রোন তেহরানে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাশিয়া ২০২২ সালে ইরানের কাছ থেকে এই ড্রোনগুলো কিনেছিল এবং ২০২৩ সাল থেকে সেগুলো উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি করতে শুরু করে। রাশিয়ার তৈরি এই ড্রোনগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়ানোর উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি এগুলো ভারী গোলাবারুদ বহন করতে পারে।

সম্পর্কিত