Advertisement Banner

আমেরিকায় ‘র’ ও ‘আরএসএস’ নিষেধাজ্ঞার আহ্বান, নিন্দা ভারতের

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আমেরিকায় ‘র’ ও ‘আরএসএস’ নিষেধাজ্ঞার আহ্বান, নিন্দা ভারতের
আরএসএস-কে নিষেধাজ্ঞার আমেরিকাতে আহ্বান জানানো হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

ভারতের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মূল সংগঠন হিসেবে পরিচিত উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা (ইউএসসিআইআরএফ) কমিশনের।

পাশাপাশি, ওই অভিযোগের জেরে দুই সংগঠনের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছে কমিশনটি। চলতি মাসের শুরুতে কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন আহ্বান জানানো হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই প্রতিবেদনে ধর্মপালনের স্বাধীনতা সূচকে নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা সহায়তা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মাত্রাকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে র ও আরএসএসকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা ও এ ধরনের পরিবেশ-পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

ইউএসসিআইআরএফ ওই দুই সংগঠন ও এগুলোর সঙ্গে জড়িতদের সম্পদ জব্দ করা ও আমেরিকায় প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধের আহ্বান জানায়।

গতকাল সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বার্তায় বলেন, ‘ইউএসসিআইআরএফ-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনটি আমলে নিয়েছি। সুনির্দিষ্টভাবে ভারতকে বিরুদ্ধে দেওয়া এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট বয়ান প্রত্যাখ্যান করছি।’

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা আগের তুলনায় আরও কমে যায়। দেশটির সরকার সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নতুন আইন চালু করে। এতে আরও বলা হয়, বেশ কয়েকটি রাজ্যে ধর্মান্তর-বিরোধী আইন চালু অথবা বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় শরণার্থীদের গণহারে ধরপাকড় ও অবৈধভাবে বহিষ্কার করেছে এবং সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের হামলার ঘটনায় নির্বিকার থেকেছে।

ইউএসসিআরএফে সুপারিশ করা হয়, মার্কিন সরকার যেন এ বিষয়টির আলোকে ভারতকে ‘উদ্বেগজনক দেশ’ আখ্যা দেয়। কারণ হিসেবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করা ও সয়ে নেওয়ার’ কথা বলা হয়েছে।

১৯৯৮ সালে মার্কিন কংগ্রেসের একটি আইনের মাধ্যমে গঠিত এই ইউএসসিআইআরএফ মূলত বিদেশের মাটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা বা বিশ্বাসের সার্বজনীন অধিকারের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি অব স্টেট ও কংগ্রেসের কাছে সুপারিশ পেশ করে। সংস্থাটি নিজেকে স্বাধীন বলে দাবি করলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সেনেটের উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক নেতারা এর নয়জন কমিশনারকে নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

সম্পর্কিত