বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি এলাকায় মো. নাজমুল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আখতারুজ্জামান সরকার তাকে এ হত্যা মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
অজয় কর খোকনের আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তিনি এখন পর্যন্ত মোট তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার না দেখাতে হাইকোর্টের আদেশ আছে। সেটি আজ লঙ্ঘন করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং সংবিধান পরিপন্থী।”
এ দিন শুনানির জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার আইনজীবী মো. ওবায়দুল ইসলাম, শামীম আল সোহাগ, সাইফুল, জাকির হোসাইে গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন নাজমুল। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর এক সহকর্মী মোহাম্মদপুর থানায় এজাহারনামীয় আসামিদের পাশাপাশি অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আটক রাখার আবেদনে পুলিশ জানায়, মামলার পরবর্তী নিরপেক্ষ তদন্তে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।