জাতীয় ঐক্য ও সকলের মতামতের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। সংবিধান নতুন করে না লিখে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন।’’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ভারতের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘‘১৯৫০ সালে গৃহীত ভারতের সংবিধান এ পর্যন্ত ১০৬ বার সংশোধন করা হলেও তা নতুন করে লেখা হয়নি। বাংলাদেশেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে।’’ একটি কমা পরিবর্তন করলেও তা সংস্কার বা সংশোধন হিসেবে গণ্য হবে এবং এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণের আবহে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা। সংসদে বিরোধীদল ১১-দলীয় জোটের শরিক এলডিপির মহাসচিব কর্নেল (অব.) অলি আহমদও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। জুলাই সনদের সংস্কার আগে বাস্তবায়িত হলে এবারই প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
বিরোধীদলের এ অবস্থানের প্রেক্ষাপটে চিফ হুইপ পুনরুল্লেখ করেন যে, সংবিধানের কোনো স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন একা না করে সকলের মতামত নিয়েই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটবে সরকার।