চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে সাত দিনের চেয়ে আবেদন করেছেন মামলাটির তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান গত ২০ আগস্ট এই রিমান্ড আবেদন করেন।
আজ সোমবার প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন আগামী বৃহস্পতিবার।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানিয়েছেন, তিন কারণে ডনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তিনি জানান, ১৯৯৬ সাল থেকে সালমান শাহের মায়ের করা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, মামলার প্রকৃত সত্য ও রহস্য বের করতে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ডন একজন চতুর ব্যক্তি হওয়ায়, তার কাছ থেকে মামলার সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের তথ্য উদ্ধার ও তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ হেফাজতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ দরকার। সর্বশেষ কারণ হলো— নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সে কার মদদে এবং কী উদ্দেশ্যে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছিল, সেই গোপন তথ্য বের করা জরুরি।
গত ৯ অগাস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ অগাস্ট আসামির জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করে আদালত।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।