চরচা প্রতিবেদক

ইউরো চ্যাম্পিয়ন, টানা ৩৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকার পরও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্পেনকে কেউ কেউ হয়ত একটু হালকাভাবেই নিয়েছিলেন। কারণটা খুব স্পষ্ট। দলটিতে নেই বড় তারকা, যার ওপর নির্ভর করেই খেলে দলটি। তবে শিরোপার মঞ্চে আর্জেন্টিনাকে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, ঠিক এটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা। দলগত ফুটবল খেলেই ইউরোর পর বিশ্বকাপটাও ঘরে তুলেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
স্পেন ফাইনালে এসেছিল ৭ ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে। দলটির রক্ষণভাগ যে এই মুহূর্তে বিশ্বেরই সেরা, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে অবশ্য তাদের ফেভারিটের তকমা দেওয়া হয়নি। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিস অ উসমান দেম্বেলেকে নিয়ে গড়া আসরের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগকে তারা যেভাবে নিষ্ক্রিয় করে ২-০ গোলে জিতেছিল, সেটাই আর্জেন্টিনার জন্য হতে পারত একটা বার্তা।
তবে লিওনেল স্কালোনির দল সেই শিক্ষা নিতে পারেনি। আর পারেনি বলেই ফ্রান্সের মত তাদেরও বিন্দুমাত্র সুযোগই দেয়নি স্পেন। বলা ভালো, ফাইনালে আর্জেন্টিনার হাল ফরাসিদের চেয়েও করুণ ছিল। ১০৬তম মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি হলেও গোটা ম্যাচেই আসলে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল স্পেনেরই।
বড় দলের বিপক্ষে ছোট দল অধিকাংশ সময়ই সব পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থেকেও একটা গোল দিয়ে জিতে যায়। তবে আর্জেন্টিনা তো ছোট দল নয়। তারা নেমেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। কিন্তু মাঠের ফুটবলে তার লেশমাত্র ছিল না। প্রথম ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা গোলের জন্য একটা শটই নিতে পারেনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে তারাই প্রথম এই বিব্রতকর কীর্তি গড়েছে।
১২০ মিনিটে অবশ্য গোলের জন্য ৩টা শট নেওয়া গেছে, তবে একটিও যে ছিল না লক্ষ্যে। অর্থাৎ, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্পেনের পাসিং ফুটবলের কাছে বন্দী হয়ে গোলের সামনে গিয়ে বারবার খেই হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দলই সেরা হতে পারে না। ফাইনালেও তাই হয়েছে। তবে চোখে পড়ার মত ব্যাপার ছিল আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত শারীরিক ফুটবল খেলার প্রবণতা। ২৪টি ফাউল করে ৫টি হলুদ কার্ড এবং একটি লাল কার্ড দেখেছে দলটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে এই টোটকা কাজে লেগেছিল বলেই হয়ত ফাইনালেও একই কাজ করে পার পাওয়ার চেষ্টা ছিল।
তবে এই স্পেন দলকে এভাবে ঘায়েল করা সম্ভব নয়। কারণ, লুইস দে লা ফুয়েন্তে দলটাকে সাজিয়েছেন এমনভাবে যে, আপনি চাইলেও তাদের ফুটবলের শৃঙ্খলা ভাঙতে পারবেন না। বরং, নিজের খেলাটাই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর্জেন্টিনা তারই খেসারত দিয়েছে।
সেমিফাইনালে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পেকে একেবারেই আটকে দিয়ে স্পেন প্রমাণ করেছিল, তাদের এই মিডফিল্ড এবং ডিফেন্স ভেঙে গোল দিতে হলে অতিমানবীয় কিছুই করতে হবে। আর সেই কাজটা একজনই করতে পারেন, তিনি লিওনেল মেসি। ম্যান মার্কিং না করে তাকে দল হিসেবে এমনভাবে মার্ক করেছে স্পেন, তাতে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ও উপহার দিয়েছেন সাদামাটা পারফরম্যান্স।
১২০ মিনিটে মেসিকে স্পেন বল টাচ করতে দিয়েছে মাত্র ৪৬ বার। আর বল তার পায়ে গেলেই ঘিরে না ধরে এমনভাবে ত্রিভুজ আকৃতির চক্রে আটকে ফেলা হয়েছে, তাতে বক্সের আশেপাশে মেসি কিছু করার সুযোগই পাননি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
শেষ ২০-৩০ মিনিটে মেসি একটা কিছু করবেন আর জেগে উঠবে গোটা দল, সেই মন্ত্রে কেপ ভার্দে, মিশর, সুইজারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডকে হয়ত হারানো গেছে। তবে এই স্পেন দল ভিন্ন ধাতুতে গড়া। তাদের হারাতে হলে যে স্কিল থাকা দরকার, সেই আর্জেন্টিনার এই দলে ছিল না।
লা ফুয়েন্তের ট্যাকটিকসের কাছে লিওনেল স্কালোনি তাই পুরো ম্যাচেই পিছিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে মাঠে ফুটবলে আর্জেন্টিনার ক্রমাগত ফাউলের মধ্যেও স্পেন তাদের টিকি-টাকা ফুটবল খেলে গেছে। নিজেদের ফুটবল খেলেই তারা জিতেছে। তারচেয়েও বড় কথা, তারা আর্জেন্টিনাকে তাদের মত খেলতে দেয়নি।
আর তাই ফ্রান্সের পর আর্জেন্টিনাও দেখল, এই স্পেন দলটা দল হিসেবে কতোটা অপ্রতিরোধ্য। স্রেফ মেসি জিতিয়ে দেবেন, এই আশায় অন্তত স্প্যানিশদের হারানো সম্ভব নয়। আর ভিন্ন কিছু করার সব রাস্তাও যখন বন্ধ, তখন প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেওয়াই শ্রেয়।

ইউরো চ্যাম্পিয়ন, টানা ৩৭ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকার পরও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালের আগে স্পেনকে কেউ কেউ হয়ত একটু হালকাভাবেই নিয়েছিলেন। কারণটা খুব স্পষ্ট। দলটিতে নেই বড় তারকা, যার ওপর নির্ভর করেই খেলে দলটি। তবে শিরোপার মঞ্চে আর্জেন্টিনাকে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, ঠিক এটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা। দলগত ফুটবল খেলেই ইউরোর পর বিশ্বকাপটাও ঘরে তুলেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
স্পেন ফাইনালে এসেছিল ৭ ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে। দলটির রক্ষণভাগ যে এই মুহূর্তে বিশ্বেরই সেরা, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে অবশ্য তাদের ফেভারিটের তকমা দেওয়া হয়নি। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিস অ উসমান দেম্বেলেকে নিয়ে গড়া আসরের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগকে তারা যেভাবে নিষ্ক্রিয় করে ২-০ গোলে জিতেছিল, সেটাই আর্জেন্টিনার জন্য হতে পারত একটা বার্তা।
তবে লিওনেল স্কালোনির দল সেই শিক্ষা নিতে পারেনি। আর পারেনি বলেই ফ্রান্সের মত তাদেরও বিন্দুমাত্র সুযোগই দেয়নি স্পেন। বলা ভালো, ফাইনালে আর্জেন্টিনার হাল ফরাসিদের চেয়েও করুণ ছিল। ১০৬তম মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি হলেও গোটা ম্যাচেই আসলে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল স্পেনেরই।
বড় দলের বিপক্ষে ছোট দল অধিকাংশ সময়ই সব পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থেকেও একটা গোল দিয়ে জিতে যায়। তবে আর্জেন্টিনা তো ছোট দল নয়। তারা নেমেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। কিন্তু মাঠের ফুটবলে তার লেশমাত্র ছিল না। প্রথম ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা গোলের জন্য একটা শটই নিতে পারেনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে তারাই প্রথম এই বিব্রতকর কীর্তি গড়েছে।
১২০ মিনিটে অবশ্য গোলের জন্য ৩টা শট নেওয়া গেছে, তবে একটিও যে ছিল না লক্ষ্যে। অর্থাৎ, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্পেনের পাসিং ফুটবলের কাছে বন্দী হয়ে গোলের সামনে গিয়ে বারবার খেই হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দলই সেরা হতে পারে না। ফাইনালেও তাই হয়েছে। তবে চোখে পড়ার মত ব্যাপার ছিল আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত শারীরিক ফুটবল খেলার প্রবণতা। ২৪টি ফাউল করে ৫টি হলুদ কার্ড এবং একটি লাল কার্ড দেখেছে দলটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে এই টোটকা কাজে লেগেছিল বলেই হয়ত ফাইনালেও একই কাজ করে পার পাওয়ার চেষ্টা ছিল।
তবে এই স্পেন দলকে এভাবে ঘায়েল করা সম্ভব নয়। কারণ, লুইস দে লা ফুয়েন্তে দলটাকে সাজিয়েছেন এমনভাবে যে, আপনি চাইলেও তাদের ফুটবলের শৃঙ্খলা ভাঙতে পারবেন না। বরং, নিজের খেলাটাই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর্জেন্টিনা তারই খেসারত দিয়েছে।
সেমিফাইনালে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পেকে একেবারেই আটকে দিয়ে স্পেন প্রমাণ করেছিল, তাদের এই মিডফিল্ড এবং ডিফেন্স ভেঙে গোল দিতে হলে অতিমানবীয় কিছুই করতে হবে। আর সেই কাজটা একজনই করতে পারেন, তিনি লিওনেল মেসি। ম্যান মার্কিং না করে তাকে দল হিসেবে এমনভাবে মার্ক করেছে স্পেন, তাতে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ও উপহার দিয়েছেন সাদামাটা পারফরম্যান্স।
১২০ মিনিটে মেসিকে স্পেন বল টাচ করতে দিয়েছে মাত্র ৪৬ বার। আর বল তার পায়ে গেলেই ঘিরে না ধরে এমনভাবে ত্রিভুজ আকৃতির চক্রে আটকে ফেলা হয়েছে, তাতে বক্সের আশেপাশে মেসি কিছু করার সুযোগই পাননি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
শেষ ২০-৩০ মিনিটে মেসি একটা কিছু করবেন আর জেগে উঠবে গোটা দল, সেই মন্ত্রে কেপ ভার্দে, মিশর, সুইজারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডকে হয়ত হারানো গেছে। তবে এই স্পেন দল ভিন্ন ধাতুতে গড়া। তাদের হারাতে হলে যে স্কিল থাকা দরকার, সেই আর্জেন্টিনার এই দলে ছিল না।
লা ফুয়েন্তের ট্যাকটিকসের কাছে লিওনেল স্কালোনি তাই পুরো ম্যাচেই পিছিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে মাঠে ফুটবলে আর্জেন্টিনার ক্রমাগত ফাউলের মধ্যেও স্পেন তাদের টিকি-টাকা ফুটবল খেলে গেছে। নিজেদের ফুটবল খেলেই তারা জিতেছে। তারচেয়েও বড় কথা, তারা আর্জেন্টিনাকে তাদের মত খেলতে দেয়নি।
আর তাই ফ্রান্সের পর আর্জেন্টিনাও দেখল, এই স্পেন দলটা দল হিসেবে কতোটা অপ্রতিরোধ্য। স্রেফ মেসি জিতিয়ে দেবেন, এই আশায় অন্তত স্প্যানিশদের হারানো সম্ভব নয়। আর ভিন্ন কিছু করার সব রাস্তাও যখন বন্ধ, তখন প্রতিপক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেওয়াই শ্রেয়।