বৈষম্যবিরোধী আন্দোলননের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মো. ছালেমান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এই আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ৩১ জুলাই সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে ইমরানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক রানা রায়। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার।
ওই আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামি ইমরান হোসেন এই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় আসামিকে এই মামলার ঘটনায় জড়িত পক্ষে তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
এদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা বেড়িবাঁধ, বছিলা ব্রিজ, বসিলা চেকপোস্ট এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান। হামলাকারীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ছালেমান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
ওই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরানকে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পর দিন ১৩৩ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক আছেন।