ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি আইন আল-আসাদ এখন সম্পূর্ণভাবে ইরাকি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোটের প্রধান অপারেশনাল বেস হিসেবে ব্যবহৃত এই ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার পর গতকাল শনিবার ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, যার লক্ষ্য ছিল মার্কিন জোটবাহিনীকে ধাপে ধাপে ইরাক থেকে প্রত্যাহার করা এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা–অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। সেই পরিকল্পনা হিসেবে ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা সরে গেলেও লজিস্টিক কারণ দেখিয়ে কিছু সেনা এখনো অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন এক ইরাকি সেনা কর্মকর্তা।
আইন আল–আসাদ ঘাঁটিটি দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র ছিল। বিশেষ করে ২০২০ সালে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল ঘাঁটিটি।
যদিও কখন থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার শুরু হয়েছে তা স্পষ্ট নয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বড় অংশ চলে যাওয়ার কথা ছিল এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়া দেশের সামরিক সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
মার্কিন সেনা চলে যাওয়ায় এখন ঘাঁটির নিরাপত্তা ও পরিচালনার সব দায়িত্ব পুরোপুরি ইরাকি বাহিনীর হাতে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।