ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে তীর্থযাত্রীদের ওপর ট্রাক উঠে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ধানবোঝাই একটি ট্রাক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গোয়ালিয়রের সিনিয়র পুলিশ সুপার ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ছিনোরের দিক থেকে আসা ট্রাকটি ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা একটি খাড়া ঢালু রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারায়।
পুলিশ সুপার বলেন, “এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা, বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী শীতলা মাতা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। ছিনোরের দিক থেকে আসা সড়কটিতে একটি খাড়া ঢাল রয়েছে, যেখানে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ। রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই একটি ট্রাককে সেখানে থামানো হয়েছিল।”
“সেটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নেমে আসে এবং মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। সড়কে থাকা ভক্তরা ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন, ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।”
ধর্মবীর সিং জানান, দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিরা সামান্য আহত হয়েছেন।
গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অ্যাম্বুলেন্সসহ উদ্ধারকারী যানবাহন পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
রুচিকা বলেন, “নবরাত্রির সময় ওই সড়কে একটি স্টপার ও পুলিশের চেকপোস্ট ছিল। তাহলে গাড়িটি কীভাবে ভেতরে ঢুকল, তা তদন্তের বিষয়।”
জেলা প্রশাসক জানান, ট্রাকটি কীভাবে ব্যারিকেড পার হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা পরীক্ষা করতে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (আরটিও) একটি দল পাঠানো হয়েছে।