ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আর সেই সঙ্গে তার প্রাণনাশের আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস (এফএসও) সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্টের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। মস্কোর অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং ইউরোপীয় গোয়েন্দাদের দাবি, পুতিন এখন দিনের বেশিরভাগ সময় মাটির নিচের বাঙ্কারে বসে যুদ্ধ পরিচালনা করছেন এবং বেসামরিক কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। করোনা মহামারীর সময় থেকেই তার এই নিভৃতবাস শুরু হলেও, গত মার্চ থেকে অভ্যুত্থান বা ড্রোন হামলার ভয়ে ক্রেমলিন আরও বেশি তটস্থ হয়ে পড়েছে।
পুতিন ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অপারেশন স্পাইডারওয়েব এর আতঙ্ক এখনও কাটেনি। অপারেশন স্পাইডারওয়েব হলো ২০২৫ সালের জুন মাসে ইউক্রেন কর্তৃক রাশিয়ার অভ্যন্তরে পরিচালিত একটি অত্যন্ত সফল ও গোপণ ড্রোন হামলা। গত বছর রাশিয়ার উত্তর প্রান্তের বিমানঘাঁটিতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনেছিল। এতে রাশিয়ার বিভিন্ন বিমানঘাঁটির প্রচুর ক্ষতি হয়।
এছাড়া জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটকের ঘটনা পুতিনের নিরাপত্তাভীতিকে আরও উসকে দিয়েছে। এর ফলে এফএসও তাদের নিরাপত্তা বলয় আরও কঠোর করেছে। পুতিন এখন সফর অনেক কমিয়ে দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত কড়া তল্লাশির নিয়ম করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং তার পরিবার এখন আর মস্কো বা ভালদাইয়ের নিয়মিত বাসভবনে থাকছেন না। পুতিন এখন লম্বা সময় কাটান বিভিন্ন বাঙ্কারে, যার মধ্যে একটি রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার এলাকায় অবস্থিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো প্রায়ই তার আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিও প্রচার করছে। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ কর্মী যেমন রাঁধুনি, ফটোগ্রাফার ও দেহরক্ষীদের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছে। তারা কোনো গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারেন না এবং পুতিনের আশেপাশে মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা তাদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি তাদের বাড়িতে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।