ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী যানবাহনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
আজ মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহিতা, আহতদের চিকিৎসাসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সুনির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে ব্লাস্ট জানায়, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের শিল্পপ্রাঙ্গণে সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আশপাশের যানবাহন ও স্থাপনার ক্ষতি সাধনের পাশাপাশি ৮ জন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন। ব্লাস্ট নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইনি ও বিচারিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে ব্লাস্ট জানায়, অগ্নিনির্বাপণ ও বিপজ্জনক পদার্থের ব্যবহারে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহামান্য হাইকোর্ট ২০১০ সালের ‘নিমতলী অগ্নিকাণ্ড’ মামলার রিটে কিছু স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। ওই নির্দেশনায় অননুমোদিত রাসায়নিক গোডাউন নিয়ন্ত্রণ, ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ব্লাস্ট ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছে:
১. সিলিন্ডার, ভালভ, রেগুলেটর, পাইপসহ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং এসবের বৈধ অনুমোদন ও মেয়াদের কাগজপত্র যাচাই করা।
২. ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা, ১৯৯১’ সহ অন্যান্য বিস্ফোরক ও অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে মেনে চলা হয়েছিল কি না তার তদন্ত করা।
৩. কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা যথাযথ ছিল কি না তা পর্যালোচনা করা।
৪. লাইসেন্স প্রদানকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কোনো অবহেলা ছিল কি না তা নির্ধারণ করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আইনগত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
৫. নিহতদের পরিবার ও আহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিরূপণ এবং আহতদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
৬. হাইকোর্টের পূর্বে প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতি এলাকায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি পরিবহন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা।