মোজতাবা খামেনির সুরক্ষায় ইরানের রহস্যময় এলিট ফোর্স

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
মোজতাবা খামেনির সুরক্ষায় ইরানের রহস্যময় এলিট ফোর্স
ইরানের এলিট ফোর্স ‘নোপো’। ছবি: রয়টার্স

ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরে ইরানের নেতৃত্ব এখন তার পুত্র মোজতিবা খামেনির হাতে। তবে মোজতাবা নিজেও ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইআরজিসি বা সেনাবাহিনী নয়, সর্বোচ্চ নেতার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে ইরানের সবচেয়ে গোপনীয় বাহিনী ‘নোপো’–র হাতে।

ইরানের এই বাহিনীর পূর্ণ নাম ‘নিরুয়েহ বিহে প্যাসদারান বেলায়েত’। ১৯৯১ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির শাসনামলে ২৮তম রুহুল্লাহ ডিভিশন থেকে আলাদা করে এই বিশেষ ইউনিটটি গঠন করা হয়। এটি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার অনুগত এবং আইআরজিসি থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে।

নোপো বাহিনীর বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি নিয়মিত সেনাবাহিনী বা আইআরজিসির অংশ নয়। নোপো সদস্যরা আইআরজিসির চেয়েও বেশি প্রশিক্ষিত, আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত। বাহিনীটি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন, জিম্মি উদ্ধার এবং সর্বোচ্চ নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়।

তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার সুরক্ষায় চারটি ব্রিগেড নিয়োজিত থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্র এসফাহন এবং পবিত্র শহর মাশহাদেও এদের বিশেষ ব্রিগেড রয়েছে।

মোজতাবা খামেনিকে শেষবার কবে সশরীরে দেখা গেছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার প্রথম বিবৃতিটি পাঠ করেন এক নিউজ অ্যাঙ্কর। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, হামলায় মোজতাবা ‘বিকৃত’ হয়ে গেছেন এবং বর্তমানে কোমায় থাকতে পারেন।

নোপো বাহিনী কেবল বহিঃশত্রু নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনেও কাজ করে। ১৯৯৯ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনি হত্যার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা গণআন্দোলন দমনে এই বাহিনীর ভূমিকা ছিল। ২০২১ সালে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিশেষ বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সম্পর্কিত