জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, “রাষ্ট্রের মিসম্যানেজমেন্ট আর চলতে পারে না। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। এ রকম অবস্থায় কোন সরকার টিকে থাকতে পারে না।”
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রিজনভ্যানে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। প্রিজনভ্যানে থাকা অবস্থায় গ্রিলের ফাঁক দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মেজর আখতারুজ্জামান বলেন, “নির্যাতন দিয়ে আমাদের সংগ্রাম থামানো যাবে না। আমরা বাংলাদেশের জনগণের জন্য, বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থের জন্য লড়ে যাব। আজীবন লড়ে যাব, ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান করব। এই রাষ্ট্রের মিসম্যানেজমেন্ট আর চলতে পারে না। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। এ রকম অবস্থায় কোন সরকার টিকে থাকতে পারে না।”
এর কিছুক্ষণ পর একজন পুলিশ সদস্য প্রিজনভ্যানে প্রবেশ করেন। এরপর তার হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরিয়ে দেন। তিনি হাতকড়া ও হেলমেট পরতে অস্বীকৃতি জানান।
পরে হেলমেট পরানো অবস্থায় প্রিজনভ্যান থেকে তাকে বের করা মাত্রই হেলমেট ছুড়ে ফেলে মেজর আখতারুজ্জামান বলেন, “কেন হেলমেট পরব, কেন হয়েছে হেলমেট? সরকারের অবৈধ আদেশ মানি না।”
এদিকে, শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশন বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতে কোন সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশের কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও কোন উত্তর দেননি।
শুনানি শেষে এজলাস থেকে বেরিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।” এ সময় কয়েকজন সাংবাদিককেও বলেন- “আপনারা লেখেন, এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।”
শুনানি শেষে আদালতের নিচে নামানোর সময় আখতারুজ্জামান আবারও চিৎকার করে বলেন, “আমার পেছনে তারা জোর করে হাতকড়া দিয়ে হেলমেট পরিয়ে দিয়েছিল। আমি পরিনি। এই দেশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবই, করব। কত বছরের জেল দেবেন, দেন। প্রতিবাদ চলবে।”
পরে সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আসামি আখতারুজ্জামান আদালতকে জানান- তিনি একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন। তখন আদালত তাকে বলেন- প্রতিবাদ করা তার অধিকার; তবে প্রতিবাদের ভাষা সংযত হতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে গিয়ে কাউকে আঘাত করা যাবে না। আদালতের এই জবাবে তিনি (আখতারুজ্জামান) আদালতের প্রতি আরও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।”
এদিকে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আজকে ডিসি প্রসিকিউশন সাংবাদিক, আইনজীবীদের আদালত এবং আদালতের বারান্দায় ঢুকতে দেননি। এটা আমি মনে করি নিন্দনীয় ঘটনা। কোন কিছু গোপন করার জন্য সাংবাদিকদের এমবার্গো (বিধিনিষেধ) দিয়েছেন কি না, সেটাও আমি জানি না। আগামীতে যেন এভাবে না হয়, সে ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”