জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফের মারামারিতে জড়িয়েছেন নতুন ধারা বাংলাদেশের (এনডিবি) ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস। এই সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, শান্তা ফারজানাসহ কয়েকজন ব্যক্তি আ ন ম আয়াসকে মারধর করছেন। একপর্যায়ে আয়াস মাটিতে পড়ে গেলে শান্তা ফারজানা একটি কালো রঙের লোহার পাইপ দিয়ে তাকে আঘাত করছেন। অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের এক পর্যায়ে আয়াসও শান্তা ফারজানাকে পাল্টা আঘাত করছেন।
প্রেসক্লাবে মারামারির পর আহত অবস্থায় দুই পক্ষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়। সেখানেও দুই পক্ষ মারামারিতে জড়ান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢামেকে শান্তা ফারজানা অভিযোগ করেন, তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে মশাল মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষ সেখানে এসে হামলা চালায়। পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে এলে সেখানেও তাদের ওপর হামলা করা হয়।
অন্যদিকে আয়াসের দাবি, একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নতুন ধারা বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে চিকিৎসা নিতে ঢামেকে আসার পরও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। এতে তাদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে দৌড়াদৌড়ি করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রেসক্লাবের সামনের কর্মসূচি থেকে দুই পক্ষ মারামারিতে জড়ায়। হাসপাতালে গিয়েও তারা আবার মারামারি করেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গত শনিবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও শহীদদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে শান্তা ফারজানাকে আ ন ম আয়াস চড় মারেন। এরও আগে ১ আগস্ট নতুন ধারা বাংলাদেশের কার্যালয়ে শান্তা ফারজানাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে দলটি।