দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভেনেজুয়েলা ও ইসরায়েল কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু এবং দ্বিপক্ষীয় কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। একে অপরের দেশে আবার কনস্যুলার সেবা চালু করতে সম্মত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুই দেশের সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
২০০৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ভেনেজুয়েলা। ওই সময় গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে ভেনেজুয়েলা থেকে বহিষ্কার করেন।
তবে গত জানুয়ারিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে ভেনেজুয়েলা।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সরকার বলেছে, জুনে ভূমিকম্পের পর ইসরায়েলের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রতিনিধিদল দেশটি সফর করেছিল। এরপর দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। এর মধ্য দিয়ে কনস্যুলার সেবা আবারও চালু করার এ চুক্তি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই সরকারই ইসরায়েল রাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলায় বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যকার সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করে। এ সম্প্রদায় দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
এদিকে ইরান বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র। বিশ্বের অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভেনেজুয়েলাও দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে ছিল। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই ধরনের চাপের মুখে থাকা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ইরান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কারাকাসে হস্তক্ষেপেরও নিন্দা জানিয়েছে তেহরান।