প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলা বা তাকে সমর্থন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না, যদি না কোনো আইনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলেই তাকে অপরাধী ঘোষণা করা যায় না। আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কিছু সাংবাদিক মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিচার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকজন সাংবাদিককে এ ধরনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। “তবে শুধু শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলা বা তাকে সমর্থন করাকে যদি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে হয়, তাহলে এর জন্য অবশ্যই আইন থাকতে হবে,” বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, “কোনো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা না হলে কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা যায় না। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেটিকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।”
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান অভিযোগ ছিল, সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না এবং আইনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হতো না। “অনেক ক্ষেত্রে আইন থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ আইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কিংবা ভবিষ্যতের কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে যেন কেউ অবিচারের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের গোপন বৈঠক বা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো বৈঠক হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর।
“রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে, এমন কোনো কর্মকাণ্ড হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে,” উপদেষ্টা বলেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর তাদের সুরক্ষায় পৃথক আইন করার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, হামলা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বিদ্যমান আইনেই রয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, নতুন আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। তবে শুধু নতুন একটি আইন প্রণয়ন করলেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন নয়।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিদ্যমান আইনেই আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া উচিত।
আইসিটিতে দায়ের করা মামলায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় কাউকে নিয়ে অনুমাননির্ভর মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
তিনি বলেন, প্রধান প্রসিকিউটর একজন সাংস্কৃতিক কর্মীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা চার্জ গঠন না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, “শুধু চাঞ্চল্য সৃষ্টি করার জন্য কারও নাম প্রকাশ করা উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রথমে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করতে হবে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হলে গণমাধ্যম তা জানতে পারবে।”