চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সদর ও দামুড়হুদা উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃতদের মধ্যে একজন ইজিবাইক চার্জ দিতে গিয়ে, স্বামী-স্ত্রী বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় এবং অপর একজন বৈদ্যুতিক মোটর চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের চকপাড়ায় নিজ বাড়িতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় ইজিবাইকচালক।
নাসিরের প্রতিবেশী নয়ন জানান, অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর নাসিরকে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আল বেলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া, সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন জানান, নাসিরকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, দুপুর ৩টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্ত্রী লিপা খাতুনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা দুজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তাদের শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে।”
এ ছাড়া, দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুরে একটি বাড়ির বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শফিকুল ইসলাম ওরফে বরু (৪৮) নামের আরেক ব্যক্তি মারা যান।
মঙ্গলবার ভোরে যেকোনো সময় লোকনাথপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শফিকুল দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটর চুরির উদ্দেশ্যে কেরামত আলীর বাড়িতে প্রবেশ করেন শফিকুল। একপর্যায়ে বাড়ির কলপাড়ে থাকা মোটরের বৈদ্যুতিক সংযোগ কাটার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে তার শরীরের কয়েকটি অংশ পুড়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলেই শফিকুলের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ভোরে বাড়ির এক নারী তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, দামুড়হুদা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।