
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালালে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো বার্তায় তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আলি আল-তাহেরে ইসরায়েল পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালালে ইরান বড় ধরনের হামলা চালিয়ে তার জবাব দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমি ও আমার সহকর্মীরা—সবাই আমরা অঙ্গীকার রক্ষার চেষ্টা করে গেছি। কোথায় কতটুকু সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি, কোথায় ব্যর্থ হয়েছি–সে বিচারের ভার আপনাদের ওপর থাকল। আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না। আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রেখেছি। আমরা ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, আর্থিক সংস্কারে হাত দিয়েছি—যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে স্থাপন করতে না পারে। আর সর্বোপরি, আমরা একটি উৎসবমুখর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছি, যার মাধ্যমে জনগণ আবার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।”
আজ সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এসব কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমাদের সবার। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জন্য সম্ভাবনার যে দরজা খুলে দিয়েছে, সেই স্বপ্ন ও শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন, তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি, তারাও মোট ভোটের অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি, তারা এই জেনে আশ্বস্ত হবেন যে, প্রায় অর্ধেক ভোটার আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী দিন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে- এর মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ, ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত—এই নির্বাচন তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।”
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আজ বিদায়ের দিনে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে আপনাদের কিছু কথা বলব। কী মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিনটি! সে কী আনন্দের দিন! বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল। দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু দেশ সম্পূর্ণ অচল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে সেটা ছিল সবার মনে। অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা ঠিক করল দেশকে সচল করার জন্য একটি সরকার লাগবে। সরকার গঠন ও চালাবার জন্য তারা আমাকে খবর দিল। আমি তখন বিদেশে। আমি দায়িত্ব নিতে রাজি না। তারা জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের কথা বলে আমাকে রাজি করাল। ১৮ মাস পর এখন আমার যাওয়ার পালা।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি আজ আমার কাজ হতে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি। আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। যারা দেশকে লুটেপুটে খেত, তারাই দেশের এই যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে। কেউ নানাজনের সুপারিশ নিয়ে আসছে তারা অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক ইত্যাদি। সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না- এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল।”
চুক্তির ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক সুবিধা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার জন্য একটি কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কভার রেসিপরোকাল ট্যারিফ ৩৭% থেকে ১৯%-এ কমে এসেছে। এই চুক্তির একটি বিশেষ দিক হলো—যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক পণ্যে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা। এটা একটা মস্ত বড় সুবিধা। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশি পোশাক আরও কম দামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে; যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারের ফলে আমাদের সরবরাহ চেইন আরও বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিশীল হবে; এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে উচ্চমূল্যের ও উন্নতমানের পণ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দেবে।”
সরকারপ্রধান বলেন, “সেই থেকে ১৮ মাস চলে গেছে। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি এল। দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল, যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
তিনি বলেন, “চব্বিশের জুলাই মাসে বাংলাদেশের মানুষ এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের মুক্তি, আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদার দাবি উচ্চারণ করেছিল। সেই সময় দেশ একটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক সংকটে নিপতিত ছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল, গণতন্ত্র হয়েছিল ধুলিস্যাৎ, ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। ঠিক সেই সংকটময় সময়ে আমাকে আহ্বান জানানো হয়েছিল—একটি লক্ষ্য সামনে রেখে। বাংলাদেশকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য তিনটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন।”
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন জুলাই সনদ, যার ভিত্তিতে গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের মানুষ। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আশা করব এটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের ছোটবড় ভালোমন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না। এই সনদ রচনা এবং গণভোটে পাশ করানোর জন্য আমি সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, অধিকার রক্ষা প্রতিষ্ঠান যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের সবাইকে আজ অভিনন্দন জানাচ্ছি।”
ভাষণের শেষদিকে তিনি বলেন, “দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ—আমার দায়িত্ব থেকে বিদায় নেবার এই প্রাক্কালে আপনাদের সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।”
দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালালে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
নেপালে নিখোঁজদের খোঁজ পেতে স্বজনদের ভরসা ‘দেয়ালে সাঁটা ছবি’
মালয়েশিয়ার লিংকন ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশি ইয়ুথ অ্যালায়েন্সের নতুন কমিটি
গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালালে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো বার্তায় তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আলি আল-তাহেরে ইসরায়েল পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালালে ইরান বড় ধরনের হামলা চালিয়ে তার জবাব দেবে।

নেপালে নিখোঁজদের খোঁজ পেতে স্বজনদের ভরসা ‘দেয়ালে সাঁটা ছবি’
কয়েকজন মানুষ রাজধানীর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের ওই দেয়ালে সাঁটানো ছবিগুলো সতর্কতার সঙ্গে দেখছিলেন। আশপাশের নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে তারা জানতে চাইছিলেন, তাদের নিখোঁজ স্বজনদের নাম তারা শুনেছেন কি না।

গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪
রাজধানীর গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেক এলাকায় মাদক কারবারে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়।

ব্যবসার আইডিয়া থাকলেই মিলবে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ
দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবসার আইডিয়া থাকলেই এখন থেকে কোনো প্রকার জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা।