বাউলদের ওপর হামলা, সরকার নীরব কেন–প্রশ্ন টিআইবির

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
‘বাউলদের ওপর হামলা, সরকার নীরব কেন’
আবুল সরকার। ছবি: ফেসবুক

মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার এবং মানববন্ধন চলাকালে তার সমর্থকদের ওপর ‘সমন্বিত হামলায়’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি এই হামলাকে ধর্মীয় সহাবস্থান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ‘বৈচিত্র্যবিরোধী শক্তির বিপজ্জনক বিস্তৃতির জঘন্য উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এক বিবৃতিতে আজ সোমবার টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে, দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি চরম হুমকি সৃষ্টিকারী এসব অশুভ শক্তির বিকাশ রোধে সরকার নীরব কেন?

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বাউল শিল্পীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হলেও, প্রকাশ্য দিবালোকে সংগঠিত হামলার শিকার বাউল শিল্পীদের রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিকার পর্যবেক্ষকের ভূমিকা এবং এ প্রসঙ্গে সরকারের নীরবতা আইনের শাসন, মানবাধিকার, মত প্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকারকে পদদলিত করেছে।”

টিআইবি মনে করে, এ ধরণের ঘটনা দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সর্বোপরি মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি চরম হুমকি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অবস্থাদৃষ্টে এমন মনে হওয়া অমূলক নয় যে, এ ঘটনা একটি সুসংগঠিত কৌশলের অংশ।

তিনি আরও বলেন, ‘‘গত বছর কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর থেকে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, লোক ঐতিহ্য ও সংখ্যালঘু বিশ্বাসের ওপর চাপ ব্যাপকভাবে বেড়ে চলেছে। ফলে শিল্পীরা আত্মগোপনে যাচ্ছেন এবং বৈচিত্র্যময় লোকসংস্কৃতির অনুশীলন এখন ভীতির সংস্কৃতির মুখে পড়ছে।’’

অবিলম্বে বাউলদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অঙ্গীকারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রমাণ রাখতে আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হলে তা নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুত ধর্মীয় সহাবস্থান ও নাগরিক স্বাধীনতাকে ধূলিসাৎ করবে এবং নতুন রূপে কর্তৃত্ববাদের বিকাশের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় খালা পাগলীর মেলায় পালাগানের আসরে বাউলশিল্পী আবুল সরকার মৌলবাদ নিয়ে কথা বলেন। মাজার ভাঙা নিয়েও কথা বলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশ।

ডয়চে ভেলে জানায়, শুক্রবার সকালে আবুল সরকারকে জেলা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ওইদিন দুপুরে ধর্ম নিয়ে তার মন্তব্যের প্রতিবাদে ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আবদুল্লাহসহ পাঁচজন একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় তারা উল্লেখ করেন, ইসলাম ও মহান আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন আবুল সরকার। পরে গত রোববার মানিকগঞ্জে ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা' ব্যানারে থাকা একদল ব্যক্তি এবং গ্রেপ্তার আবুল সরকারের ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আবুল সরকারের তিন অনুসারীসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন।

সম্পর্কিত