ডিজিটাল দুনিয়ার কাঁটাতার পেরিয়ে এক অদ্ভুত ভাইরাল ঝড়ের কবলে এবার পাকিস্তানের রাজনীতি। নাম তার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা তেলাপোকা দল! ভারতে ব্যঙ্গাত্মক বা স্যাটায়ার হিসেবে শুরু হওয়া এই অভিনব আন্দোলন এখন সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়াতেও রীতিমতো উপদ্রব শুরু করেছে। দেশটির ফেসবুক, এক্স (টুইটার) কিংবা ইনস্টাগ্রামে ঢুকলেই এখন চোখে পড়ছে এই অদ্ভুত নামের সব রাজনৈতিক অ্যাকাউন্ট।
গল্পের শুরুটা কিন্তু খুব বেশিদিন আগের নয়, চলতি মাসের ১৬ তারিখ। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বেকার তরুণ ও অ্যাক্টিভিস্টদের তেলাপোকা ও পরজীবীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। ব্যস, তাতেই খেপে যান তরুণরা। তেলাপোকার মতো একগুঁয়ে, সহজে মরে না এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে- এমন বৈশিষ্ট্যকে প্রতীক বানিয়ে তারা খুলে বসেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মাত্র এক সপ্তাহেই কোটি ফলোয়ার জুটিয়ে রীতিমতো ইতিহাস তৈরি করে এই অনলাইন দল।
ছবি: সংগৃহীতআর এখন সেই একই ঢেউ আছড়ে পড়েছে পাকিস্তানে। সেখানে অবশ্য এর রূপ নানান রকম- কোথাও ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’, কোথাও ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’, আবার কোথাও নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট’। এর মধ্যে ককরোচ আওয়ামী পার্টির বায়োতে লেখা হয়েছে, “তরুণদের, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট।” আরেকটি অ্যাকাউন্টের বায়ো আরও এক কাঠি ওপরে, যেখানে লেখা-“সিস্টেম যাদের তেলাপোকা ভেবেছে, আমরা সেই আমজনতার কণ্ঠস্বর!”
মজার ব্যাপার হলো, এই পাকিস্তানি পেজগুলোর লোগো ভারতের মূল লোগোটার মতোই দেখতে, শুধু রঙ বদলে দেওয়া হয়েছে দেশটির পতাকার সঙ্গে মিলিয়ে সবুজ আর সাদায়। ইমরান খানের পিটিআই, নওয়াজ শরিফের পিএমএলএন কিংবা বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপির মতো চিরচেনা সব রাজনৈতিক দলের বাইরে তরুণরা একে নিজেদের একদম আলাদা এক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্র্যান্ডিং করছে।
ছবি: সংগৃহীতভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের আন্দোলনের মধ্যে একটা বড় তফাত আছে। ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির একজন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা আছেন- ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির একজন ভারতীয় শিক্ষার্থী এবং অতীতে আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক প্রচারণায় কাজ করেছেন। ভারতের এই দলের নিজস্ব মেনিফেস্টো বা ইশতেহার এবং অফিশিয়াল ওয়েবসাইটও রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে আন্দোলনটি সম্পূর্ণ ছড়ানো-ছিটানো। কোনো একক নেতা নেই, বরং একঝাঁক স্বাধীন কনটেন্ট ক্রিয়েটর যার যার মতো করে এই আন্দোলনের নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করে নিয়েছেন।
আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক দল না হয়েও মাত্র এক সপ্তাহের কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে ২ কোটিরও বেশি ফলোয়ার ছাড়িয়ে যাওয়া এই ‘তেলাপোকার দল’ এখন দুই দেশের তরুণদের প্রতিবাদের এক নতুন ও অদ্ভুত হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।