কাতারের রাজধানী দোহায় বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে এ আলোচনায় স্থায়ী শান্তির পথে কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যায়নি। এর পরিবর্তে অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব বিষয়ের সমাধান হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল, এবারের আলোচনায় সেগুলোতেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
আলোচনা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দুই দেশের প্রতিনিধিরা দোহায় দুই দিন ধরে বৈঠক করেছেন। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও ইরানের আটকে থাকা তহবিল ছাড় করানো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের পর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, গত জুনে যে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিল, দোহা আলোচনায় সে বিষয়ে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে। সুইজারল্যান্ড শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই এ আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে দুই পক্ষই এগিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার কাজে ভালোভাবে অগ্রগতি হচ্ছে। তাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। এখন দেখা যাক কী হয়।”
তবে সূত্রগুলোর দাবি, দোহা বৈঠকে পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। আলোচনা মূলত কারিগরি বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, পরমাণু ইস্যুটি পরে বিবেচনা করা হবে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “পরমাণু ইস্যু নিয়ে আমরা অবশ্যই চিন্তিত। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি।”
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আলাদা বৈঠক করেছেন।