ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইসের সাহায্যে রোগ নির্ণয়ের দাবি করে ১৫ বছর ধরে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে বরিশাল বাবুগঞ্জের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তার কাগজপত্র ভুয়া বলে শনাক্ত হয়। এসময় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তার ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে তাকে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আলীমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখতেন। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকায় নিয়মিত রোগী দেখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নিজের ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে ‘ডা.’ লিখতেন আলীমুল। সেখানে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য উল্লেখ করতেন। পাশাপাশি মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলেও দাবি করতেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ ডিভাইসে হাত রেখে রোগ নির্ণয়ের কথা বলে রোগীদের চিকিৎসা দিতেন আলীমুল। তবে তার চিকিৎসক পরিচয় ও যোগ্যতার সপক্ষে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) তামিম মল্লিক ও মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী উপস্থিত ছিলেন।
মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তার দেখানো কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইউএনও আসমা উল হুসনা বলেন, ভুয়া পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আলীমুল ইসলাম বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
ইউএনও জানান, আলীমুলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।