জেরুজালেমে দূতাবাস খুলেছে কলম্বিয়া। এর মধ্য দিয়ে শহরটিতে দূতাবাস স্থাপনকারী দশম সরকার হলো দেশটি। এর মাধ্যমে নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা তার পূর্বসূরির ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত উল্টে দিয়েছেন।
বেশির ভাগ দেশ ইসরায়েলে তাদের দূতাবাস তেল আবিবে রাখে। ইসরায়েল জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে চায়। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি হলো এই শহরের মর্যাদা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচক ছিলেন। পেত্রো ইসরায়েলে কয়লা রপ্তানিও বন্ধ করে দেন।
পেত্রো তেল আবিবে কলম্বিয়ার দূতাবাস বন্ধ করে দেন এবং দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেন। ইসরায়েল এ পদক্ষেপকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে আখ্যা দিয়েছিল এবং বলেছিল, এর মাধ্যমে হামাস যোদ্ধাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।
ডানপন্থী দে লা এসপ্রিয়েলা গত আগস্টে প্রেসিডেন্ট হন।
গত মঙ্গলবার পেত্রোর আমলে বাতিল করা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি পুনর্বহাল করা হয়। পরদিন বুধবার জেরুজালেমে দূতাবাস খুলেছে কলম্বিয়া।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বলেন, “জেরুজালেমে দূতাবাস খোলার অর্থ শুধু এই সরল রাজনৈতিক বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়া নয় যে, জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী। এর অর্থ এমন একটি ঐতিহাসিক সত্যকে স্বীকার করাও, যা কোনো সৎ মানুষ অস্বীকার করতে পারেন না।”
দূতাবাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমর বুলা বলেন, “আজ আমরা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথে একটি বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ সম্পর্ক কখনোই ছিন্ন হওয়া উচিত ছিল না। ইসরায়েল একটি কৌশলগত অংশীদার। সব সময়ই তা ছিল, আর এখন থেকে এই অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে।”
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সার ও বুলার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে। কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বৈঠকে রাজনৈতিক সংলাপ, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করার পর থেকে বিভিন্ন দেশও সেখানে দূতাবাস সরিয়ে নিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, প্যারাগুয়ে ও সোমালিল্যান্ড।
ফিলিস্তিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল শেখ দূতাবাস খোলার নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা একে এমন একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি, যা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক বৈধতার প্রতিফলন ঘটানো প্রস্তাবগুলোকে উপেক্ষা করে এবং পবিত্র নগরীর বিশেষ আইনি ও ঐতিহাসিক মর্যাদা লঙ্ঘন করে।”