আফগানিস্তানকে জয়ের জন্য ১৬১ রানের টার্গেট দিলেও ফাইনালে যেতে বাংলাদেশকে জিততে হতো বড় ব্যবধানে। আর সেই লক্ষ্যে বোলারদের করতে হতো এমন কিছু, যা ক্রিকেটে মিরাকল ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা, আফগানিস্তানের মতো একটি দলকে এমন ব্যাটিং উইকেটে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখাটা প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার ছিল। আর শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই।
ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।
শিরোপার লড়াইয়ে আফগানিস্তান খেলবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করে গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৬০ রানে। নেট রান-রেটে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে ফাইনালে যেতে হলে আফগানদের আটকে দিতে হতো ১১৯ রানে। তবে হেসেখেলেই মাত্র ৮৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে সেই আশা শেষ করে দিয়েছেন রশিদ খানরা।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল প্রথম দশ ওভারের মধ্যেই। মাত্র ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ফেলার পর ম্যাচে ফিরতে হলে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে খুব বিশেষ কিছু করতে হতো। তবে আফগানিস্তানের বোলাররা সেই সুযোগই দেননি।
উইকেটে বোলারদের জন্য বিশেষ কিছু না থাকলেও বাজে শটের প্রদর্শনীতে একে একে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। তিনজনই এক ডিজিটে আউট হয়েছেন। আর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় এমন একটি শটে আউট হয়েছেন, যা দেখে তিনি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
ওপেন করতে নেমে সাইফ হাসান ৪১ রানের একটি ভালো ইনিংস খেলেছেন। আর পারভেজ হোসেন, যিনি এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফিরেছেন, সাইফকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটাও আর যথেষ্ট হয়নি।
পারভেজ আউট হওয়ার আগে ৭০ রান করেছেন, যা ছিল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ। মূলত তার কল্যাণেই বাংলাদেশ ১৫০ পার করতে সমর্থ হয়। গোটা ইনিংসে ৮ জন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরেই যেতে পারেননি।
এই ধরনের কন্ডিশনে তো বটেই, বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটে যেকোনো কন্ডিশনেই ওয়ানডেতে জেতার জন্য ২০০ রানের কম করাটা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের জন্য অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ২০০ রান করতে পারাটাই বিশাল এক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এ বছর নিজেদের খেলা ১৪টি ওয়ানডেতে এই নিয়ে চতুর্থবার ২০০ রানের আগেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় জয়ের আশা শুরুতেই কার্যত শেষ হয়ে যায়। রান তাড়ায় শুরু থেকেই বেশ সাবধানে এগিয়েছে আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত অনায়াসেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। অপরাজিত ৬৭ করেন রহমত শাহ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪১.২ ওভারে ১৬০ (সাইফ ৪১, তানজিদ ১, সৌম্য ০, নাজমুল ১৫, হৃদয় ০, পারভেজ ৭০, মিরাজ ২, শরীফুল ৭, আলিস ০, তাসকিন ২*, মোস্তাফিজ ০; রশিদ ৪/৩১, আহমেদজাই ২/২১, ওমরজাই ২/২৭, নবী ১/৩৫)।
আফগানিস্তান: ৩৫.৩ ওভারে ১৬১/৩ (রহমত ৬৭*, শহীদি ৩৬*, জাদরান ৩৪; তাসকিন ২/৩৬, মোস্তাফিজ ১/৩২)।
ফল: আফগানিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী।