পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়ন ও রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে কারাগারে তার সঙ্গে অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “ইমরান খানের সঙ্গে যা হচ্ছে, তা অমানবিক, বর্বরতার শামিল।”
বিবৃতিতে আশরাফুল হক বলেছেন, “ইমরান খান বিশ্বজুড়ে একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তিনি পাকিস্তান থেকে দুর্নীতি নির্মূলের লক্ষ্যেই রাজনীতিতে এসেছিলেন। পুরো পাকিস্তানের জনগণের ম্যান্ডেট তার পক্ষে। এমন একজন ব্যক্তিত্বকে কারাগারে বন্দী করে রাখার বিষয়টি পাকিস্তানি জনগণ পছন্দ করছে না। কোনো সভ্য জাতিই চায় না এমন কিছু হোক। এটি অমানবিক ও অসাংবিধানিক। ইমরানের সঙ্গে যে আচরণ হচ্ছে, সেটা পুরোপুরি বর্বরতা।”
ইমরান খানের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনেছেন আশরাফুল হক, “ইমরান খানকে আমি চিনি সেই ১৯৭১ সাল থেকে। লাহোর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে সে ঢাকায় খেলতে এসেছিল। বয়সে ছিল তরুণ। আমার মনে আছে আমাদের বিপক্ষে সে একটি সেঞ্চুরি করেছিল। ওই ম্যাচ থেকেই আমরা বন্ধু। এরপরও বহুবার নানা জায়গায় আমাদের দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরও তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব একই রকম ছিল।”
সৈয়দ আশরাফুল হক স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আমরা দুজনই ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করেছি। আমি প্রায়ই অক্সফোর্ডের কেবল কলেজে যেতাম ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে।”
তিনি বলেছেন, “আমার এখনো মনে আছে পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনিই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে পাকিস্তান সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।”
পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২২ সালে তাকে একটি মামলার কারণে নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণ করে। ২০২৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকেই রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে অন্তরীণ তিনি।