রংপুরে এক বাসা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তাদের হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে মরদেহ চারটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তাদের পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া় ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।
প্রাথমিক ধারণা থেকে রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাদের হত্যা করা হয়েছে। মনে হচ্ছে, এটি ডাকাতির ঘটনা।
গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় ছাদের সিঁড়িতে। প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার নিচে। আর গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় ছাদের এক প্রান্তে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাতে প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ফোন করেছিলেন তার বোন পূজা চক্রবর্তী। বোনের ফোন বন্ধ পেয়ে একে একে বোনের স্বামী, তাদের মেয়ে এবং শিশু ছেলের ফোনে কল করেন তিনি। সবারই ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর রংপুর মহানগরের কামালকাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় বোনের বাসায় এসে দেখেন, ঘর তালাবদ্ধ। তখন পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ঘরে ঢুকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
পূজা চক্রবর্তী বলেন, “আমার স্বামী অফিস থেকে আসার পর আমি বললাম, দিদিদের চারটা ফোনই বন্ধ কেন? চলো তো যাই ওদের বাসায়। আমরা আসলাম, কলিং বেলও বাজে না। দেখলাম, পুরো বাড়ি অন্ধকার। দিদি, দিদি, চিল্লাতে চিল্লাতে প্রতিবেশী কিছু চলে আসলো।”
পূজা চক্রবর্তী বলেন, “তখন দুই বাড়ির মাঝের ছোট্ট একটা প্রাচীর টপকিয়ে উঠলাম। জোরে জোরে জানালার থাই গ্লাসে ধাক্কা দেওয়ার পর সেটা খুলে গেছে। মোবাইলের আলো দিয়ে দেখি, ওদের ওয়ারড্রবের ড্রয়ার খুলে কাপড়সহ যা যা ছিল, সব ছড়ানো-ছিটানো। তখন আমি চিৎকার করলাম।”
পূজা বলেন, “আমার ভাগনের লাশ ছিল খাটের নিচে। আমার বড় বোনকে সিঁড়িতে ফেলে রাখছে। আমার বড় বোনের ওপর ভাগনিকে ফেলে রাখছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “তাদের খুন করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো রয়েছে। তাদের পুরো ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটা ডাকাতি হতে পারে।”
রাত দেড়টায় সেখানে গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি দল কাজ করছিল।