খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটে গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এ বিভাগে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ জনে। একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম লিয়াকত (৫৩)। তিনি খুলনা নগরীর গগনবাবু রোডের বাসিন্দা।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান জানান, কিডনি জটিলতাসহ নানাবিধ উপসর্গ নিয়ে ১৬ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিয়াকতের মৃত্যু হয়। বর্তমানে রোগীর চাপ বাড়লেও ওষুধ ও কিটের সংকট নেই। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে ডেডিকেটেড পৃথক ইউনিট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগে মোট ৩ হাজার ৫৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৩৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৪৪৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১৭২ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৭ জন ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছর এ বিভাগে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ১০ জন এবং খুলনা জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ২ জন মারা যান। আর ১ জনের মৃত্যু হয় বাগেরহাটে।
নতুন ভর্তি ১৫৩ জনের মধ্যে ১২০ জন সরকারি এবং ৩৩ জন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ এক দিনে ৭০ জন (খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬, অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে ৩১ ও বেসরকারিতে ৩৩) এবং যশোরে ২০ জন রোগী ভর্তি হন। এছাড়া বাগেরহাটে ১৫, কুষ্টিয়ায় ৮, নড়াইলে ৪, মেহেরপুর ও সাতক্ষীরায় ১ জন করে ভর্তি হন। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গায় গত ১৩ আগস্ট চলতি মৌসুমের প্রথম রোগী শনাক্তের পর ১৭ আগস্ট আরও ৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।