একটি বহুত্ববাদী, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংবিধানে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এম এন লারমা) দর্শন অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকার এক সেমিনারের বক্তারা। তারা বলেছেন, কেবল মুখে বহুত্ববাদের কথা বললেই তা প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং রাষ্ট্রের সব জাতিসত্তা, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মর্যাদা, পরিচয় এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আজ শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আইপিনিউজ বিডি আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষা ও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সাংবিধানিক বহুত্ববাদ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকেরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ এবং সঞ্চালনা করেন সতেজ চাকমা।
আলোচনায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘‘১৯৭২ সালেই এম এন লারমা সংবিধানে মেহনতি মানুষ, নারী ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। বর্তমানে বহুত্ববাদের কথা বলা হলেও বাস্তবে বৈষম্য নিরসনে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। এমনকি নীতি-নির্ধারণী কমিশনেও আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি।’’
নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘‘রাষ্ট্র যদি শুরুতেই লারমার দর্শন ধারণ করত, তবে একটি প্রকৃত মানবিক রাষ্ট্র গড়ে উঠত।’’ প্রান্তিক মানুষের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বা গোয়েন্দা দৃষ্টিভঙ্গি বদলে তাদের অধিকার ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, ‘‘বহুত্ববাদের আলোচনা অনেক সময় মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকে।’’ অবিবাহিত পরিচয়ের কারণে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা এবং বিভিন্ন কমিশনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয় উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত বহুত্ববাদ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী ত্রিপুরা বলেন, ‘রেইনবো নেশন’-এর কথা বলা হলেও আদিবাসীদের অধিকার সংকুচিত হচ্ছে।
বক্তারা ঐকমত্য প্রকাশ করেন যে, নারী, শ্রমজীবী, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা ছাড়া বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।