ফ্রান্সে আজ মঙ্গলবার দেশজুড়ে উচ্চবিদ্যালয় অবরোধ ও বিক্ষোভের কর্মসূচি চলছে। শিক্ষার্থী ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো অর্থসংকটে থাকা সরকারকে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা এবং জরাজীর্ণ স্কুলগুলোর সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবারের দেশব্যাপী বিক্ষোভের আগে টানা দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলে আসছে। প্যারিসের বঞ্চিত শহরতলিগুলো থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও তা সহিংস রূপ নেয়।
সরকার এর জবাবে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করেছে। এতে ব্যাপক ধরপাকড়ের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় বিক্ষোভকারী, পুলিশ কর্মকর্তা ও স্কুলকর্মীরা আহত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এই অস্থিরতার কারণে ফরাসি সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের ছয় মাস আগে সরকার যখন ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করছে, তখনই এই পরিস্থিতি তৈরি হলো।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ফ্রান্সের সরকারি ঋণের সুদহার দ্রুত বেড়েছে। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের পর এমন মাত্রা আর দেখা যায়নি।
রয়টার্স টিভির লিয়ঁ ও স্ত্রাসবুর্গের প্রতিবেদকদের সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষের চিত্র দেখা গেছে। পুলিশ সদস্যদের কয়েকজন কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের লিয়ঁ শহরে একটি ব্যস্ত সড়ক মোড়ে আগুন থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এর চারপাশে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছিল।
জার্মান সীমান্তের কাছে দেশের পূর্বাঞ্চলের শহর স্ত্রাসবুর্গেও দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও দেখা গেছে। তাদের কয়েকজনের মুখ কালো স্কার্ফ বা মাস্ক দিয়ে ঢাকা ছিল।
তবে এই সংঘর্ষে ঠিক কারা জড়িত ছিল, তা স্পষ্ট নয়।
আগের দিনগুলোতে কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছিল, সহিংসতায় আগ্রহী নৈরাজ্যবাদী বিক্ষোভকারীরা বৈধ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। ফ্রান্সে অতীতের বিভিন্ন বিক্ষোভের সময়ও এমন ঘটনা ঘটেছে।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজেদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি অনলাইন পরামর্শ কার্যক্রম ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চালু থাকবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, এবার তোমাদের কথা বলার পালা। প্রতিটি স্কুলে তোমাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা আমাদের জানাও।”
তিনি আরও বলেন, “তোমাদের মতামতের ভিত্তিতে পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত সময়সূচিসহ একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। আর এর জন্য আমরা তোমাদের কাছে জবাবদিহি করব।”
১৯৯০-এর দশকে ফ্রান্সে এ মাত্রার সর্বশেষ দেশব্যাপী উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হয়েছিল, যার মূল দাবি ছিল শিক্ষাখাতে আরও অর্থ বরাদ্দ।
ওই আন্দোলনের ফলে শিক্ষাখাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দায়িত্ব ও চাহিদা বাড়তে থাকলেও শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় আর বাড়েনি, বরং তা স্থবির হয়ে পড়ে।