Advertisement Banner

সংস্কারের সব উদ্যোগেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সংস্কারের সব উদ্যোগেই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। ছবি: বাসস

সংস্কারের নামে যা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাস্তবায়‌নে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য প্রণয়নে সংস্কার বিমুখতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতেখারুজ্জামান ব‌লেন, “ অন্তর্বর্তী সরকার কার্যত আমলাত‌ন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কেন এই আত্মসমর্পণ হলো, দুর্বলতাটা কোথায়, তা মূল প্রশ্ন। তবে সরকারের অভ্যন্তরে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সরাসরি অভিজ্ঞতা না থাকায় এর নির্দিষ্ট উত্তর আমার কাছে নেই।”

টিআইবির সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংস্কারের জন্য খাত বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণে কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে, এমন বিবেচনার সুযোগ নেই। ১১টি কমিশন ও কমিটির বাইরে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অন্য অনেক খাত, যেমন শিক্ষা, কৃষি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত কোনো যুক্তিতে বাদ পড়েছে–এর কোনো ব্যাখ্যা নেই।

গণভোটের সিদ্ধান্ত ছাড়া সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনগুলো বাস্তবায়নের কোনো কর্মকৌশল প্রণীত হয়নি। শুরু থেকে কোনো পর্যায়ে সংস্কার বি‌রোধী মহলকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করার গুরুত্ব অনুধাবন করা হয়নি। বরং এই অপশক্তির কাছে আত্মসমর্পণের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাতিল হয়েছে। সংস্কার-পরিপন্থী অ‌নেক সিদ্ধান্তে জুলাই সনদকে যুক্তিহীনভাবে লঙ্ঘন করে নেতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্কার-পরি আইন বা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

গত দেড় বছরের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদ বা মন্ত্রিপরিষদ নামে কর্তৃপক্ষ থাকলেও বাস্তবে অপারেশনাল সিদ্ধান্ত সেখানে নেওয়া হয় না। কোন কাগজে সই হবে, কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, কোন ধারা বা তারিখ থাকবে কিংবা বাদ যাবে, এসব বিষয় উপদেষ্টা পরিষদ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে না। এসব সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে থাকা অত্যন্ত ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি বা মহলের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এই মহলগুলো শুধু নিজেদের গোষ্ঠীস্বার্থই নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থ এবং কখনও কখনও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একাংশের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখে।”

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি আন্তর্জাতিক মানের আইন হতে পারত, যদি খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করা হতো বলে জানিয়েছে টিআইবি।

সম্পর্কিত