Advertisement Banner

মিরপুরে লিটনের ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
মিরপুরে লিটনের ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান
ছবি: বিসিবি

সেই ২০১৫ সালে মিরপুরে ওয়ানডে অভিষেক লিটন দাসের। সময়ের হিসেবে ম্যাচ খুব বেশি না খেললেও এই ফরম্যাটে ‘হোম অব ক্রিকেটে’ ফিফটির দেখা লম্বা সময়ে পাননি তিনি। অথচ টেস্টে এখানে রয়েছে তার বড় বড় ইনিংস। বিস্ময়করই বটে। তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে অবশেষে ঘুচল সেই আক্ষেপ।

লিটনের পাশাপাশি তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেনের ফিফটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ করেছে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান।

এই মিরপুরেই ২০২২ সালে টেস্টে ১৪১ রানের ঝকঝকে ইনিংসে খেলেছিলেন লিটন। অথচ এই ভেন্যুতে বছরের পর বছর ধরে খেলেও ওয়ানডেতে তিনি পঞ্চাশ রান পার করতে পারেননি। কয়েকবার আউট হয়েছেন চল্লিশের ঘরে। এবার ৬১ রানে ৩ উইকেট হারানোর নেমে ভালোভাবেই এগিয়ে নিচ্ছিলেন ইনিংস। যদিও শুরুতে ছিলেন বেশ ধীরগতির।

সেরা ছন্দের লিটনের ব্যাটিং মানেই চোখের শান্তি। এই ইনিংসেও তিনি এমন কিছু শট খেলেছেন, যা ওয়ানডেতে তার আরও ভালো না করতে পারার আক্ষেপই যেন বাড়িয়েছে। সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ানো ম্যাট রেনশকে সামলেছেন দক্ষতার সঙ্গে। পেসের বিপক্ষেও ছিলেন সাবলীল।

মিরপুরে ওয়ানডেতে নিজের প্রথম ফিফটি যখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা, তখনই বাঁধ সাধে চোট। হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ে রিটায়ার্ড হার্ট হতে হয় ৪৮ রানে।

লিটন মাঠ ছেড়ে যাওয়ার পর সাময়িক একটা চাপের শঙ্কা ছিল বাংলাদেশে সামনে। তাওহীদ হৃদয় সেট হয়ে গেলেও সেভাবে বড় শট খেলতে পারছিলেন না। তবে প্রথম ম্যাচে ৮৬ করা মোসাদ্দেক হোসেন দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শুরু থেকেই ব্যস্ত রাখেন অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের। ফলে উইকেট পতনেও কমেনি রানের গতি।

ঠিক এই ভূমিকার জন্যই মোসাদ্দেককে দলে নেওয়া। তিনি ইতিবাচকভাবে ব্যাটিং করেছেন বলেই তাওহীদ গরমের ক্লান্তি ঝেড়ে সময় পেয়েছেন ইনিংস বড় করার। প্রতি ওভারেই চার-ছক্কার মারে এই জুটি দ্রুতই দলকে নিয়ে যান বড় স্কোরের পথে।

৯৩ রানের জুটি ভাঙেন বেন ডোয়ারশুইস। ফ্লিক শটে লেগ সাইডে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচে শেষ হয় তাওহীদের (৮৩) ইনিংস।

যে স্কোরটা একটা সময় অনায়াসে ছিল ২৮০ রানের পথে, সেটা এরপরই কমে যায়। ২৯ মাস পর একাদশে ফেরা শেখ মাহেদি পারেননি ক্যামিও খেলতে। লিটন ফের মাঠে নেমে ফিফটি পূরণ করে শেষ ওভারে হাঁকান দর্শনীয় এক ছক্কা। অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। আর মোসাদ্দেক করেন ৫৬।

এর আগে অবশ্য বাংলাদেশের টপ অর্ডারে আবারও আতঙ্কের কারণ হন রেনশ। ব্যাটসম্যান থেকে এই সিরিজে পুরোদস্তুর স্পিন অলরাউন্ডার বনে যাওয়া এই অফ স্পিনার ফের জোড়া আঘান হানেন। ১৯ রান করা তানজিদ হাসান স্লগ-সুইপ করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দেন রিলি মেরেডিথের হাতে।

সিরিজে টানা দ্বিতীয়বার এরপর রেনশর শিকার হন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। মাত্র ৪৮ স্ট্রাইক রেটে তার ২৪ রানের ইনিংসের যবনিকা ঘটে অফ স্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারি টেনে সুইপ করতে গিয়ে। শেষ পর্যন্ত হন বোল্ড। আর অভিজ্ঞ ওপেনার সৌম্য সরকার (২) বিদায় নেন প্রথম ওভারেই।

সম্পর্কিত