আর্থিক দুর্নীতি, অযোগ্যদের নিয়োগ প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে ‘মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার’ দাবি করে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম বলেছেন, “কোনো একটি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।”
আজ মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, “তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগ কার্যক্রম সিন্ডিকেটের অনুমোদন সাপেক্ষে হয়েছে। তাই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।” তদন্তে কোনো একটি অভিযোগও সত্য প্রমাণিত হলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলে জানান।
এদিকে আজ সকালে উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী পক্ষ। জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন তারা। বিক্ষোভে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, অযোগ্যদের নিয়োগ প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
এর আগে গতকাল সোমবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান নয় শিক্ষক-কর্মকর্তা।
পদত্যাগকারীরা সবাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের সদস্য। পদত্যাগকারীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ জি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীর চর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাইজের অফিসার ইনচার্জ গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. বাসির উদ্দিন।
অভিযোগ তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে অনিয়মের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হয়রানি করছেন উপাচার্য। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ করেন।