সিঙ্কহোল কী, কেন হয়?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সিঙ্কহোল কী, কেন হয়?
শহরের রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া একটি সিঙ্কহোল। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

এক মুহূর্তেই ব্যস্ত সড়ক ভেঙে নিচে ধসে গেল। গড়ে উঠল প্রায় ১৬০ ফুট গভীর এক অন্ধকার গর্ত! সম্প্রতি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ভাজিরা হাসপাতালের সামনের সড়কে এমন সিঙ্কহোল তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, এই সিঙ্কহোলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টানেল ও সড়ক।

প্রশ্ন হচ্ছে, সিঙ্কহোল আসলে কী ও কেন এটি তৈরি হয়? চলুন এই প্রশ্নগুলোরই উত্তর খুঁজে দেখা যাক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিঙ্কহোল কখনো থালার মতো চওড়া হতে পারে, আবার কখনো গভীর গর্ত বা কূপের মতোও দেখা যায়। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সিঙ্কহোল হলে তা প্রায়ই অনিয়মিত আকার ধারণ করে, কারণ ওপরের রাস্তা বা স্থাপনা গর্তের আকৃতি আড়াল করে দেয়।

সিঙ্কহোল কীভাবে তৈরি হয়?

সিঙ্কহোল বিভিন্ন কারণে তৈরি হতে পারে—এর মধ্যে ভূতাত্ত্বিক কারণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানবসৃষ্ট কারণও দায়ী হতে পারে।

সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো চুনাপাথর জাতীয় শিলা ভেঙে যাওয়া। বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড বৃষ্টির পানিতে মিশে কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড শিলার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে, শিলার সঙ্গে বিক্রিয়া করে এবং ধীরে ধীরে তাকে গলিয়ে ফেলে।

এই প্রক্রিয়া কখনো ধীরে ধীরে ঘটে, ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গর্ত বড় হতে থাকে। আবার কখনো চুনাপাথরের ওপরে আরেকটি স্তর (যেমন মাটি বা বেলেপাথর) থাকে। তখন চুনাপাথর ধসে গেলেও পৃষ্ঠে কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। পরে ওপরের স্তর হঠাৎ নিচে ভেঙে পড়ে ‘কোলাপ্স সিঙ্কহোল’ তৈরি করে।

মানবসৃষ্ট কার্যক্রমও সিঙ্কহোলের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মানুষ যখন রাস্তা বা অন্য কোনো প্রকার নির্মাণকাজ করে, তখন তৈরি হতে পারে সিঙ্কহোল। কেননা এভাবে ভূমির পরিবর্তনের কারণে মাটির নিচের শিলাস্তর দুর্বল হয়ে যায়। ফলে বেড়ে যায় সিঙ্কহোল তৈরির সম্ভাবনা। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাতের সময় শহরের ব্যস্ত রাস্তা বা আবাসিক এলাকায় তৈরি হতে পারে সিঙ্কহোল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্কহোল সৃষ্টি হওয়া পুরোপুরি বন্ধ করা মানুষের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। সিঙ্কহোলের ঘটনা প্রাকৃতিক কারণ ছাড়াও মানবসৃষ্ট কার্যক্রমের ফলেও ঘটে। তাই এ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে সিঙ্কহোলের ঘটনা কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

সম্পর্কিত