রূপার দাম বর্তমানে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ বছর বিশ্ববাজারে রূপার মূল্য ৭৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা সোনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রূপার স্পট প্রাইস পঞ্চাশ ডলারের সীমা পেরিয়ে গেছে এবং ৫২.২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রূপার মূল্যে বৃদ্ধি ১৯৮০ সালের জানুয়ারির রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
সোনা, রূপার দামের এই ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা নিয়ে আমেরিকান বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস একটি বিশ্লেষণ করেছে। তাতে রূপার মূল্যবৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে বাজারের তারল্য সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। লন্ডনে রূপার বৈশ্বিক বাণিজ্য ও রূপার মজুদ কমেছে। গ্রিনল্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের এক কর্মকর্তা ব্লুমবার্গকে জানান, এই পরিস্থিতি ‘অভূতপূর্ব’। রূপার সরবরাহ ঘাটতির ফলে দাম দ্রুত বেড়েছে।
বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস–এর বিশ্লেষকরা মনে করেন, মার্কিন সরকারের অচলাবস্থা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশার কারণে রূপার দাম আরও বেড়ে থাকতে পারে।
সোনা ও রূপাকে সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয় বিশ্বব্যাপী। এই দুটির দাম প্রায়শই একসঙ্গে বাড়ে। তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা মনে করেন, রূপার তুলনায় সোনার দামে অস্থিরতা ও পতনের ঝুঁকি কম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে সোনার চাহিদা বিপুল। তবে রূপার ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না। বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য সোনা একটি ব্যবহারিক বিকল্প। সোনার প্রতি আউন্সের মূল্য রূপার চেয়ে বেশি এবং এটি দুষ্প্রাপ্য সম্পদও বটে।
যদিও বর্তমানে বাজারে তারল্যের ঘাটতির কারণে রূপার দাম বাড়ছে, তবে গোল্ডম্যান স্যাকস–এর বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এই ঘাটতি অল্প সময়ের জন্য। রূপার উচ্চ মূল্যের জন্য ধাতুটির চাহিদা বহির্বিশ্বে কমছে।
অন্যদিকে এ বছর প্লাটিনামের মূল্য আগের তুলনায় ৮২ দশমিক ৫% বেড়েছে, যা গত দশকে সোনা ও রূপার তুলনায় পিছিয়ে ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি এবং হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে প্লাটিনামের দাম বাড়ছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আমেরিকার অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। এতে করে সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান ধাতুগুলো লাভবান হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের অচলাবস্থা, দুর্বল ডলার এবং সুদের হার কমানোর আশা এই দুই ধাতুর বাজারকে আরও শক্তিশালী করছে।
ব্যাংক অফ আমেরিকার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সোনা ও রূপার দাম আরও বাড়তে পারে। ২০২৬ সালের মধ্যে সোনার দাম প্রতি আউন্সে পাঁচ হাজার ডলার এবং রূপার দাম ৬৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে!
অর্থাৎ, সোনা ও রূপা ভবিষ্যতে আরও দামী হয়ে যেতে পারে। আর যদি বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা আরও টালমাটাল হয়ে যায় কোনো কারণে, তাহলে তো কথাই নেই! সোনা, রূপা কেনার আগে হয়তো তখন হাজারবার ভাবতে হবে আগ্রহী গ্রাহকদের।