ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনসভা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি) । এটি মূলত ইইউ সদস্য দেশগুলোর পার্লামেন্ট দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত। ইপিতে ৭২০ জন সদস্য রয়েছে।
ইপি ইইউর একমাত্র সরাসরি নির্বাচিত সংস্থা, যা এর সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করে। ইইউয়ের বাজেট অনুমোদন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, সদস্য দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে ইইউ আইন নিয়ে আলোচনার মতো কাজগুলো করে ইপি। প্রতি ৫ বছরে ইপির সদস্য নির্বাচনে ভোট হয়।
তবে এই পার্লামেন্ট দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকরতার জন্য সমালোচিত। সমালোচকেরা একে ‘কাগুজে বাঘ’ ও ‘মিকি মাউস পার্লামেন্ট’ বলে উপহাস করে। তাদের মতে, পরিবর্তন আনার বেশিরভাগ প্রচেষ্টা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে পড়ে যায়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রশাসনিক দপ্তর লুক্সেমবার্গে অবস্থিত হলেও, মূল অধিবেশন ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে এবং মাঝে মাঝে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্বজুড়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ইউরোপীয় জাতিসত্তার আয়না বলা হয়ে থাকে। ৭২০ আসনবিশিষ্ট এই পার্লামেন্ট নির্বাচনে বর্তমানে ভোটারের সংখ্যা ৩৫ কোটির বেশি।
যুক্তরাজ্য চলে যাওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যসংখ্যায় রয়েছে ২৭টি দেশ। দেশগুলো হলো বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, সুইডেন, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও সাইপ্রাস।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট হল একমাত্র ইইউ প্রতিষ্ঠান যেটির সদস্যরা ২৭ দেশের ভোটারদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইইউ এর নির্বাহী শাখা ইউরোপীয় কমিশন এবং ইইউ সরকারের মন্ত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কাঠামো বেশ জটিল। সদস্য দেশগুলোর ভোটাররা তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের জন্য একজন ইউরোপীয় সংসদ সদস্য (এমইপি) নির্বাচন করেন। এতে অসংখ্য জাতীয় ও ইউরোপীয় দল প্রতিনিধিত্ব পায়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এমপি কোটা নির্ধারিত হয়, দেশটির লোকসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা সব সময় পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। এই সদস্যরা আবার আড়াই বছরের জন্য ইপি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন।
২১ টি সদস্য দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকরা ইপিতে ভোট দিতে পারেন। বেলজিয়াম, জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং মাল্টায় ন্যূনতম ভোট দেওয়ার বয়স ১৬ বছর। নির্বাচনের বছরে বয়স ১৭ হলেই, তারা ভোট দিতে পারেন গ্রিসে। হাঙ্গেরিতে বয়স নির্বিশেষে বিবাহিতরা ভোট দিতে পারেন।
পার্লামেন্ট আইন সংশোধন ও পাস করা, আন্তর্জাতিক চুক্তি করা ও সংশোধনীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ইইউ-এর বার্ষিক বাজেট অনুমোদন করার মাধ্যমে ইইউ আইন ও নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইইউ কমিশনকে আইন প্রণয়নের জন্যও অনুরোধ করতে পারে।
এমইপিরা কমিশন এবং কাউন্সিলের কাজ তত্ত্বাবধান করে এবং কমিশনের প্রস্তাবিত আইন গ্রহণের জন্য কাউন্সিলের সাথে দায়িত্ব ভাগ করে নেয়। বেশিরভাগ এমইপিরা জাতীয়তা দ্বারা বিভক্ত না হয়ে বিস্তৃত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্য। তাই তারা প্রায়ই তাদের দল এবং দেশের মধ্যে আনুগত্যের ভারসাম্য বজায় রাখে।
ঐতিহ্যগতভাবে ইইউ এর সবচেয়ে বড় দুটি দল হলো মধ্য-ডানপন্থী ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) এবং মধ্য-বামপন্থী প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স অব সোশ্যালিস্ট অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস (এসএন্ডডি)। কিন্তু অন্যান্য দলগুলো ক্রমশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ইকোনমিস্ট