জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার তৈরির স্বপ্নই এতদিন সবাই দেখেছে, কেউ বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। বলা হয়েছে, এই সুপারকম্পিউটার কাজ করবে জেটাফ্লপস গতিতে। পুরোপুরি কর্মক্ষম হলে এই সুপারকম্পিউটার আজকের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপারকম্পিউটারের চেয়েও ১০০০ গুণ বেশি গতিতে কাজ করতে পারবে।
জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার কী, এটি বোঝার জন্য শুরুতেই জানতে হবে ফ্লোটিং‑পয়েন্ট অপারেশনস পার সেকেন্ড বা এফএলওপিএস সম্পর্কে। বাইনারি ডিজিটকে যেমন সংক্ষেপে আমরা বিট বলি, তেমনি একেও চাইলে উচ্চারণের সুবিধার্থে ফ্লপস বলা যেতে পারে। এটি দিয়েই নির্ধারিত হয় যে, কম্পিউটারের শক্তি আসলে কতটা। অর্থাৎ, কম্পিউটারের ক্ষমতা বা শক্তিমত্তার পরিমাপক হলো ফ্লোটিং‑পয়েন্ট অপারেশনস পার সেকেন্ড বা এফএলওপিএস বা ফ্লপস। এক্ষেত্রে একটি ফ্লোটিং‑পয়েন্ট অপারেশন হলো একটি গণনা। সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে কতটি গণনা করতে পারে একটি কম্পিউটার, তা অনুযায়ীই সেটির ক্ষমতা নির্ধারিত হয়।
আজকালকার সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারেরও গতি হলো এক্সাফ্লপস মাত্রার। এর অর্থ হলো ১ সেকেন্ডে ১ কুইন্টিলিয়ন গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারে এগুলো। প্রশ্ন হলো, ১ কুইন্টিলিয়ন তাহলে কী? ১‑এর পর ১৮টি ০ যোগ হলে যে পরিমাণ হয়, তা হলো ১ কুইন্টিলিয়ন। কী, গুণতে সমস্যা হচ্ছে? হ্যাঁ, এই পরিমাণ গণনাই এখনকার সুপারকম্পিউটার ১ সেকেন্ডে সমাধা করতে পারে।
এক কথায়, জেটা‑ক্লাস হলো এখনকার সুপারকম্পিটারের বাপ। এটি কাজ করবে জেটাফ্লপস গতিতে। যখন একটি সুপারকম্পিউটার ১ জেটাফ্লপস গতিতে কাজ করতে সক্ষম হবে, তখনই সেটি হবে জেটা‑ক্লাস কম্পিউটার। ১ সেকেন্ডে ১ সেক্সটিলিয়ন গণনা সম্পন্ন করতে পারলেই হবে ১ জেটাফ্লপস। ১ সেক্সটিলিয়ন হলো ১‑এর পর ২১টি ০ যোগ হলে যে পরিমাণ হয়, তা।
ত

বে নতুন জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার তৈরিতে ঝক্কিও কম নয়। বিশেষ করে নতুন সুপারকম্পিউটারকে দক্ষভাবে ব্যবহার করাটা বেশ চ্যালেঞ্জের। এ বিষয়ে গত বছরই সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, বর্তমান প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার তৈরি করে তা চালাতে গেলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের ধারণা হলো, এ ধরনের জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার চালাতে প্রায় ২১টি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত মোট শক্তির সমপরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হতে পারে!
এদিকে জাপান জানিয়েছে, ২০২৫ সাল থেকেই থেকেই নতুন জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার তৈরির কাজে হাত দিতে যাচ্ছে তারা। দেশটি বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই নতুন জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার তৈরি করা সম্ভব হবে। এই সুপারকম্পিউটার বানাতে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিটার তৈরি করতে পারলে সামনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা‑কেন্দ্রিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরির দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে জাপান। সেটা এতটাও হতে পারে যে, দেখা গেল জাপানের ধারে‑কাছেও কেউ নেই। দেশটির নতুন এই সুপারকম্পিউটারের নাম হতে পারে ‘ফুগাকু নেক্সট’।
তবে নতুন জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার তৈরিতে ঝক্কিও কম নয়। বিশেষ করে নতুন সুপারকম্পিউটারকে দক্ষভাবে ব্যবহার করাটা বেশ চ্যালেঞ্জের। এ বিষয়ে গত বছরই সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, বর্তমান প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার তৈরি করে তা চালাতে গেলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের ধারণা হলো, এ ধরনের জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার চালাতে প্রায় ২১টি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত মোট শক্তির সমপরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হতে পারে!
বোঝাই যাচ্ছে যে, জেটা‑ক্লাস সুপারকম্পিউটার বানানোর ঘোষণা দেওয়া যতটা সহজ, বানানো ততটা নয়। তবে এ ক্ষেত্রে জাপানের পূর্ব অভিজ্ঞতা যেহেতু বেশি এবং অন্য কেউ এটি তৈরির ঘোষণা দেওয়ার সাহসও করতে পারছে না, ফলে অনুমান করাই যায় যে, হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারই হতে চলেছে ফুগাকু নেক্সট!
তথ্যসূত্র: নিক্কেই ডটকম, লাইভসায়েন্স, এনডিটিভি ও সায়েন্স অ্যালার্ট