রাষ্ট্র পরিচালনা ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণদের মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রণীত একটি সুপারিশপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ‘জয়েনিং ইয়ুথ ইন ইফেক্টিভ এনগেজমেন্ট ইন রিফর্ম অ্যাজেন্ডাস ইন বাংলাদেশ (জয়ি)’ কার্যক্রমের আওতায় আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী মতবিনিময় সভায় এই সুপারিশপত্র তুলে ধরা হয়। ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ভয়েজ।
সভায় সুপারিশপত্রের মূল পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন ভয়েসের উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা। উপস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের সীমিত প্রভাব, আদিবাসী ও প্রান্তিক তরুণদের অপর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুর্বলতা, কর্মসংস্থান ও পেশাগত বিকাশে প্রতিবন্ধকতা এবং তথ্যে প্রবেশাধিকার ও নাগরিক অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সংস্কার প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি অনুসরণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
‘চরচা সম্পাদক’ কলামিস্ট সোহরাব হাসানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথিরা অগ্রাধিকারভিত্তিক করণীয় এবং আইন প্রণেতা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে পরবর্তী সম্পৃক্ততা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার বলেন, “সংসদ সদস্যরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধের কাজ করেন। জনগণকে বিভক্ত করে এমন কোনো বিতর্কে না গিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” বর্তমান সরকার তরুণদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলেও দাবি করেন এই তরুণ নেত্রী।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ তরুণ শিক্ষাজীবন শেষ করলেও তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ কর্মসংস্থানে প্রবেশ করতে পারেন। এই বাস্তবতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রান্তিক তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া, যুব কার্যক্রমকে বেগবান ও যুগোপযোগী করতে খুব শিগগিরই খসড়া জাতীয় যুবনীতি ২০২৬ চূড়ান্ত করে জারি করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনা সভায় তরুণ প্রতিনিধি, সরকারি ও বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।