বাংলাদেশে কার্যরত চীনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি ‘এনসিসি চায়না কানেক্ট’ নামে একটি বিশেষায়িত চায়না ডেস্ক চালু করেছে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল বুধবার ঢাকার রেডিসন ব্লু হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) আয়োজিত এবং এনসিসি ব্যাংক এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘চায়না ন্যাশনাল ডে সেলিব্রেশন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে চায়না ডেস্কটি উদ্বোধন করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে চায়না ডেস্কের উদ্বোধন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইয়ুইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।”
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের এক-চীন নীতির প্রতি অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে বিসিসিসিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি ড. লিউ ইউয়ুন বাংলাদেশে চীনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ডেস্ক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।
এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন বলেন, “চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ‘এনসিসি চায়না কানেক্ট’-এর মাধ্যমে আমরা চীনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত ও বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা দিতে চাই, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে। চীনের ৩০টি ব্যাংকের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্ক এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০০টি করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে আমরা চীনের সাথে ক্রসবর্ডার বৈদেশিক বাণিজ্য লেনদেন নিষ্পত্তি সহজতর ও দ্রুত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ছাড়াও আমরা চীনা মুদ্রা আরএমবিতে চাইনিজ ট্রেড ট্রানজাকশনস সেটেলমেন্ট এর বিষয় সুযোগ তৈরি করার বিষয়েও কাজ করছি।”