‘আমরা সবাই ভূমিকা রাখি—সবার জন্য গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে বৈশ্বিক গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা সপ্তাহ ২০২৬।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির (ইডব্লিউইউ) ইনফরমেশন স্টাডিজ বিভাগ, ইউনেসকোর ঢাকা কার্যালয় এবং মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (মিলনেটবিডি) যৌথভাবে এ আয়োজন করেছে। এতে সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘের নির্বাচনী প্রকল্প—ব্যালট।
আজ রোববার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এই সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
ইউনেসকোর ঢাকা কার্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় আলোর মিনারের সামনে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই জোনে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের বুথ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক এবং বাংলাদেশে ইউনেসকো প্রতিনিধি ও ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান ড. সুসান ভাইজ। এ ছাড়া, ইউনেসকোর অন্য কর্মকর্তা, শিক্ষক, মিলনেটবিডির প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সমাজের উন্নয়নে তথ্যের ন্যায্য ব্যবহারের বিষয়ে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সুসান ভাইজ বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতার প্রসারে ইউনেস্কোর অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অধ্যাপক ড. দিলারা বেগম সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ, তথ্য যাচাই, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারে গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল ২৬ অক্টোবর ‘এআইয়ের যুগে গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতার গুরুত্ব’ বিষয়ে বক্তৃতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালানো হবে। ২৯ অক্টোবর ‘একবিংশ শতাব্দীর তরুণদের জন্য গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতার দক্ষতা’ শীর্ষক সেমিনার, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং মিলনেটবিডির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর অনলাইনে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চলবে।
এ আয়োজনের লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সমাজে গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, বাংলাদেশের তরুণদের এ-সংক্রান্ত দক্ষতা নিয়ে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা এবং তথ্যের দায়িত্বশীল ব্যবহার উৎসাহিত করা।
সেমিনারে গবেষণার ফলাফল নিয়ে আলোচনা এবং তরুণদের গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতার দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষার্থী, গবেষক, তথ্য পেশাজীবী ও অন্য অংশীজনের কাছ থেকে সুপারিশ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ইনফরমেশন স্টাডিজ বিভাগ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা, গবেষণা এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার ও গণমাধ্যম এবং তথ্য সাক্ষরতার প্রসার ঘটাতে চায়। তাদের লক্ষ্য, তথ্যসমৃদ্ধ ও ডিজিটাল সক্ষমতাসম্পন্ন সমাজ গঠনে প্রত্যেকের ভূমিকা নিশ্চিত করা।
ছবি: ইউনেসকোর ঢাকা কার্যালয়
প্রতি বছর ২৪ থেকে ৩১ অক্টোবর বৈশ্বিক গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা সপ্তাহ পালিত হয়। দায়িত্বশীলভাবে তথ্য সংগ্রহ, সমালোচনামূলক মূল্যায়ন, তৈরি ও বিনিময়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে মানুষকে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।
এ বৈশ্বিক কর্মসূচির মাধ্যমে ইউনেসকো ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজ এবং তরুণদের একত্র করে সবার জন্য গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতার প্রসার, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ এবং ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা তথ্যপরিবেশে সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করে।