কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচলিত কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে। কম খরচে নির্মাণ, নতুন ধরনের সৃজনশীল কাজের সুযোগ এবং বৈশ্বিক দর্শকের কাছে স্থানীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সম্ভাবনা তৈরি হলেও এর সঙ্গে মেধাস্বত্ব, পরিচয়, নৈতিকতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিমালা প্রণয়ন, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে এখনই গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র ও প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা।
গত শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সভাকক্ষে ‘এআই ও চলচ্চিত্র: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রেইন ল্যাব ও ঢাকা ডকল্যাব।
ব্রেইন ল্যাব ও ঢাকা ডকল্যাবের যৌথ উদ্যোগে চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রযুক্তিবিদ ও শিক্ষার্থীরা বৈঠকে অংশ নেন।
তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুব করিম বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনো ভাল উদ্দেশ্যে, কখনো খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। মূলত এটি ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করবে। এটা নিয়ে আমাদের এত ভাবতে হচ্ছে, কারণ এটি আমাদের জীবন, জীবনযাত্রা এবং কর্মসংস্থানকে প্রচণ্ড গতিতে আঘাত করছে, এলোমেলো করে দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের এখনই এ বিষয়ে ভাবতে হবে।”
ওই প্রকল্পের পরামর্শক মামুন অর রশীদ বলেন, “এআই মানুষের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করবে- এমন ধারণার পরিবর্তে এটিকে মানুষের সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে দেখতে হবে। যদি বাংলাদেশের ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি ম্যানুয়াল বা ট্র্যাডিশনাল প্র্যাকটিসের মধ্যে থাকে, তাতে খুব ক্ষতি নেই; আজকে যদি অ্যাডাপ্ট করা না হয়, ন্যাচারাল সিলেকশনের মতো করে পিছিয়ে যাবে ইন্ডাস্ট্রি।”
শব্দ প্রকৌশলী রিপন নাথ বলেন, “এআই চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজকে সহজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের সৃষ্টিশীলতার অনন্য ‘ম্যাজিক’ তৈরি করতে পারে না।”
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, “এআই কম খরচে চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি করছে এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে নিজেদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রেখে এআইকে স্মার্টভাবে ব্যবহার করতে হবে।”
স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা ডকল্যাবের ট্রাস্টি ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।
ঢাকা ডকল্যাবের পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক আহমেদের পরিচালনায় বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সীবস সলিউশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্মাতা হাসিব হাসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষক খন্দকার রুবায়েত মুরসালিন, গোপী বাঘা প্রোডাকশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রযোজক জনাব আরিফুর রহমান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উন্মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত শিক্ষক, তরুণ নির্মাতা, প্রযোজক, ফ্রিল্যান্সারসহ ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষেরা তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।