বাংলা সাহিত্যের প্রসার ও লেখকদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে লেখক ও সাহিত্যিকদের সম্মাননা দিয়ে আসছে ব্র্যাক ব্যাংক ও দৈনিক সমকাল।
গতকাল শুক্রবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বিজয়ী লেখকদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
২০২৪ সালের জন্য দেশের খ্যাতনামা লেখক, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও ২০২৫ সালের জন্য কথাসহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়।
‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’-এ আবুল আহসান চৌধুরী ‘বিদ্যাসাগর বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান সমাজ’ গ্রন্থের জন্য প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ শ্রেণিতে; আনোয়ারা সৈয়দ হক ‘সময় বহিয়া গেল’ গ্রন্থের জন্য কবিতা ও কথাসাহিত্য শ্রেণিতে এবং নিজাম বিশ্বাস ‘জলমাকড়ের নৌকাবাইচ’ গ্রন্থের জন্য ‘তরুণ সাহিত্যিক পুরস্কার’ শ্রেণিতে বিজয়ী হন।
‘ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’-এ নাসরীন জাহান ‘পালকের চিহ্নগুলো’ গ্রন্থের জন্য প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ শ্রেণিতে; শাহীন আখতার ‘মানচিত্র’ গ্রন্থের জন্য কবিতা ও কথাসাহিত্য শ্রেণিতে এবং মাহবুব ময়ূখ রিশাদ ‘সায়ানাইড ফুল’ গ্রন্থের জন্য ‘তরুণ সাহিত্যিক পুরস্কার’ শ্রেণিতে বিজয়ী হন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ, ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন, ও দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী। দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গও এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
‘আজীবন সম্মাননা পুরস্কার’ বিজয়ীকে পুরস্কার হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা; ‘প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, ভ্রমণ ও অনুবাদ’ ও ‘কবিতা ও কথাসাহিত্য’ এ দুই শ্রেণিতে প্রত্যেক বিজয়ী পুরস্কার হিসেবে তিন লাখ টাকা করে পান এবং ‘তরুণ সাহিত্যিক পুরস্কার’ বিজয়ী পান দুই লাখ টাকা। প্রত্যেক বিজয়ীকে ক্রেস্ট ও সম্মননাপত্রও প্রদান করা হয়।
এই পুরস্কার বাংলাদেশের সাহিত্যিক, পাঠক ও প্রকাশক মহলে অনেক আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তিন শ্রেণীতে ২০২৪ সালে জন্য ৪৬০টি এবং ২০২৫ সালে ৫১০টি বই জমা পড়েছিল। সাহিত্যিক বেগম আকতার কামাল, গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, কবি আবিদ আনোয়ার এবং প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক খালিকুজ্জামান ইলিয়াসের সমন্বয়ে গঠিত জুরি বোর্ড ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রকাশিত সেরা বইগুলো নির্বাচন করেন।
ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, “লেখক এবং পাঠকদের সাহিত্যের প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতে, আমাদের এই পুরস্কার সমাজে একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এবং আমরা বুঝতে পারছি যে এর সাথে সাথে আমাদের আরও কিছু করার দায়িত্বও বেড়ে গেছে। এ পুরস্কারের মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষের মেধা, মননশীলতা ও সৃষ্টিশীলতা বিকাশে কাজ করতে চাই।”
সাহিত্য প্রসারের এ উদ্যোগ সম্পর্কে ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, “এই পুরস্কার ইতিমধ্যে দেশের সাহিত্য জগতে একটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্থান অর্জন করেছে। এই পুরস্কার দেশের লেখক ও সাহিত্যিকদের, বিশেষ করে তরুণ লেখকদের অনুপ্রাণিত করছে। আর পাঠকরা পাচ্ছেন রুচিশীল বই পড়ার সুযোগ। দেশের তরুণ উদীয়মান এবং প্রতিভাবান লেখকদের সৃষ্টিশীল কাজের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এ পুরস্কার। আমরা এই সাহিত্য পুরস্কারের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে গর্বিত।”
সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘‘সমকাল বরাবরই দেশীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করে এসেছে। আমরা মনে করি ভালো সাংবাদিকতার চর্চায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি বড় ভূমিকা রাখে। সমকাল সবসময় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নেবে।’’
টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, “এই সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনই নয়। এটি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতারও অংশ। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে। ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সবার সহযোগিতা নিয়ে আরো বিস্তৃত হবে।’’